বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাস্তব যেখালে গল্পকে হার মানায়, জে কে রাউলিং অভাবি সিঙ্গেল মাদার থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করা লেখিকা

উত্তরা ডেস্ক   |   রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ | প্রিন্ট

বাস্তব যেখালে গল্পকে হার মানায়, জে কে রাউলিং অভাবি সিঙ্গেল মাদার থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করা লেখিকা

যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ৭৭০ কোটি মার্কিন ডলারের মালিক হতে আসলে কি করা উচি‍‌ৎ? তাহলে হয়তো বেশিরভাগ মানুষেরই উত্তর হবে নতুন ধরনের আইডিয়া নিয়ে একটি ব্যবসা শুরু করা, যেমনটি বিল গেটস অথবা মার্ক জুকারবার্গের মত মানুষেরা করেছেন। আসলেই তো, ব্যবসা ছাড়া কিভাবে একজন বিলিওনেয়ার হতে পারে?

আপনার নিশ্চই মনে আছে ফেসবুক যখন ১০০ কোটি (এক বিলিয়ন) ডলার দিয়ে ইন্সটাগ্রামকে কিনে নিল, অথবা মাইক্রোসফট যখন ৭২০ কোটি ডলারের বিনিময়ে নোকিয়াকে কিনে নিল, তখন বিশ্বজুড়ে কি হৈচৈটাই না হল!

কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় শুধুমাত্র গল্পের বই লিখে একজন মানুষ নোকিয়ার পুরো কোম্পানী মূল্যের থেকেও ৫০ লক্ষ ডলার বেশি আয় করে ফেলেছেন – তখন আপনার কি মনে হবে?

জেকে রাউলিং এবং তাঁর হ্যারি পটার সিরিজের বিশ্বজোড়া ভয়াবহ জনপ্রিয়তার কথা হয়তো আপনার জানা আছে – কিন্তু আপনি কি জানতেন এই সিরিজের আয় বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানীর মোট সম্পদের থেকেও কয়েক গুন বেশি?

ধরে নিলাম জে.কে রাওলিংকে চিনতে আপনার একটু কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু হ্যারি পটারের নাম কখনও শোনেননি এটা বিশ্বাস করতে যে কারও কষ্ট হবে। পৃথিবীর ইতিহাসের সবথেকে জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল ফ্যান্টাসী সিরিজ হ্যারিপটারের স্রষ্টা লেখিকা জে.কে রাওলিং। এখন পর্যন্ত তাঁর লেখা বই ৪৫০ মিলিয়ন – অর্থাৎ ৪৫ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে যার আনুমানিক মোট আয় ৭৭০ কোটি মার্কিন ডলার!

বইয়ের বাইরে হ্যারি পটার সিরিজের প্রতিটি সিনেমাই ব্লকবাস্টার হিট। সবকিছু মিলিয়ে কিছু সময়ের জন্য জেকে রাওলিং বিলিওনিয়ারও বনে গিয়েছিলেন। যদিও কিছু দানধ্যানের কারনে তিনি এখন আর বিলিওনিয়ার নেই, তবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমান এখনও রানি ২য় এলিজাবেথের থেকে বেশি।

পৃথিবীর লেখকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম বিলিওনিয়ার। আর এসবই সম্ভব হয়েছে তাঁর অসাধারণ কল্পনাশক্তি আর গল্প বলার অবাক করা ক্ষমতার কারনে। তাঁর মত এত চমৎকার করে চরিত্র সৃষ্টি করতে খুব কম লেখকই পারেন। তাঁর অসাধারন লেখনি দিয়ে তিনি কোটি কেটি শিশুকিশোরের মন তো জয় করেছেনই, সেইসাথে কোটিকোটি প্রাপ্তবয়স্ককেও রূপকথার জগতে দিনরাত বিচরণ করতে বাধ্য করেছেন। এমন কথাও বলা হয় যে মানুষের কল্পনাশক্তি কতদূর যেতে পারে তা বোঝার জন্য হ্যারি পটারের বইগুলো পড়া উচিৎ। কল্পনাশক্তি এবং অনুভব করার মত চরিত্র সৃষ্টির দিক দিয়ে তাঁকে সবাই একবাক্যে তাঁকে একজন জিনিয়াস হিসেবে স্বীকার করেন।

কিন্তু এত সফলতা যাঁর, তাঁর এই যাত্রাটি কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। জীবনের একটা পর্যায় পর্যন্ত তাঁকে অনেক কঠিন সময়ের মুখোমুখী হতে হয়েছে। একটি কন্যা সন্তান সহ তাঁকে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই তিনি শুধুমাত্র অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে লেখালেখি শুরু করেন। পরপর ১২টি প্রকাশনা সংস্থার ফিরিয়ে দেয়ার পর অবশেষে ১৩ নম্বর সংস্থাটি বইটি প্রকাশ করতে সম্মত হয় – আর বাকিটা তো সাহিত্যের ইতিহাসের অমোচনীয় অধ্যায়। চলুন তাহলে জেনে নিই এই অসাধারন লেখিকার রূপকথার হাত ধরে সাফল্যগাথা রচনার গল্প।

সংগ্রাম ও সৌভাগ্যের শুরুর কথা:
এক্সিটার ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশুনা শেষ করার পর ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে রাওলিং ১৯৯০ সালে পর্তুগালে পাড়ি জমান। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় পর্তুগিজ সাংবাদিক জর্জ আর্নেটস এর সাথে। অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা বিয়ে করেন এবং ১৯৯৩ সালে জেসিকা নামে তাঁদের একটি মেয়ের জন্ম হয়। জেসিকার জন্মের অল্পকিছুদিনের মধ্যেই জর্জের সাথে রাওলিং এর সাংসারিক ঝামেলা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা বিবাহবিচ্ছেদে গড়ায়। জর্জ এর সাথে সম্পর্কের ইতি ঘটিয়ে রাওলিং জেসিকাকে নিয়ে স্কটল্যান্ডের এডিনবুরোতে ফিরে এসে তাঁর ছোটবোন দাই এর সাথে থাকতে শুরু করেন। স্কটল্যান্ডে ফিরে রাওলিং তাঁর মেয়েকে নিয়ে দারুন আর্থিক অনটনের শিকার হন। মেয়ে এবং নিজের জন্য কোনওভাবেই তিনি যথেষ্ঠ অর্থের যোগাড় করতে না পেরে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই তিনি হ্যারি পটারের প্রথম বইটি লিখতে শুরু করেন। এরপরের কাহিনী তো রূপকথাকেও হার মানায়।

এক নজরে জে.কে রাওলিং:
বৃটিশ লেখিকা ও সিনেমার চিত্রনাট্যকার জোয়ান রাওলিং এর জেকে রাওলিং ছদ্মনাম নেয়ার পেছনে কিন্তু একটা ইতিহাস আছে । একজন মহিলার লেখা বই কম বিক্রি হতে পারে এই কারনে তিনি তাঁর মূল নামের বদলে শুধুমাত্র আদ্যক্ষর দিয়ে তাঁর ছদ্মনামটি তৈরী করেন। তাঁর মূল নামের সাথে কোনও মধ্যবর্তী নাম (সরফফষব হধসব) না থাকলেও তিনি ছদ্ম নামের সাথে ‘ক’ অক্ষরটি যোগ করেন তাঁর দাদী ক্যাথরিনের সম্মানে।

জোয়ান রাওলিং এর জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩১ জুলাই। বাবা ছিলেন এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার পিটার জেমস রাওলিং, এবং তাঁর মায়ের নাম ছিল এ্যান রাওলিং।

১৯৯৭ সালে তাঁর প্রথম বই “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি ফিলোসফারস্ স্টোন, প্রকাশিত হওয়ার আগে তিনি তাঁর এক সন্তানকে নিয়ে স্কটল্যান্ডের এডিনবুরোতে অর্থনৈতিক ভাবে খুবই বাজে অবস্থায় বসবাস করতেন। কিন্তু শিশুতোষ রূপকথার বইটি প্রকাশ হওয়ার পর রাতারাতি আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারে পরিনত হয় এবং রাওলিং পরিনত হন আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একজন বড় লেখক হিসেবে। ১৯৯৯ সালে যখন হ্যারি পটারের প্রথম তিনটি বই নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকার প্রথম তিনটি জায়গা একসাথে দখল করে নেয় তখন পৃথিবীর সাহিত্যজগত আরও একবার নড়েচড়ে বসে। এরপর একে একে হ্যারিপটার সিরিজের আরও চারটি বই বের হয় – এবং প্রতিটি বইই আগেরটির থেকে বেশি সাফল্য লাভ করে। হ্যারি পটার সিরিজের মোট সাতটি বই আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৪৫ কোটি কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। হ্যারি পটারের বইগুলো থেকে বানানো প্রতিটি সিনেমাই ব্লকবাস্টার হিট। ছবিগুলোর সবগুলো মিলিয়ে আয় করেছিল ৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাঁর প্রথম সিরিজের সফলতার পর রাওলিং এরপর একে একে আরও বেশ কয়েকটি বই বের করেন।

২০১২ সালে বের হওয়া তাঁর “ক্যাজুয়্যাল ভ্যাকেন্সি ” বইটি দারুন প্রশংসা কুড়ায় – যার প্রধান কারন ছিল হ্যারি পটারের ছায়া থেকে সম্পূর্ণ ভাবে এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন। বইটিতে ফ্যান্টাসির বদলে ছিল নির্মম বাস্তবতার এক অদ্ভূত প্রতিফলন। অনেক পাঠক অবশ্য হ্যারি পটারের মত কিছু একটা আশা করে বইটি পড়া শুরু করে হতাশও হয়েছিলেন। এরপর ২০১৩ সালে রবার্ট গ্যালব্রেইথ  ছদ্মনাম নিয়ে আরও একটি বই বের করেন তাঁর বিখ্যাত নামের ছায়া থেকে বের হয়ে এসে। ২০১৬ সালে তিনি আরও একবার হ্যারি পটারের জগতে প্রবেশ করেন মঞ্চনাটক “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি কার্সড চাইল্ড  এবং সিনেমা “ফ্যান্টাসটিক বিস্টস্ এ্যান্ড হয়্যার টু ফাইন্ড দেম  এর মাধ্যমে। প্রথমটির গল্প গড়ে উঠেছে হ্যারি পটার সিরিজ শেষ হওয়ার উনিশ বছর পরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, আর ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট এর কাহিনী গড়ে উঠেছে হ্যারি পটার সিরিজের ঘটনা শুরুর বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

মোট সম্পদের পরিমান:
আগেই বলা হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে লেখকদের মধ্যে তিনিই প্রথম শতকোটি ডলারের মালিক হয়েছেন – অর্থাৎ বিলিওনেয়ার হয়েছেন।

জে কে রাউলিং এর জীবনী
বইয়ের আয়ের ১৫ শতাংশ র‍য়্যালিটি এবং সিনেমার পারিশ্রমিক ও লাভের অংশ মিলে তাঁর এই বিপূল অর্থ সমাগম। যদিও পরবর্তীতে কিছু দাতব্য সংস্থায় দান করার পর বিলিওনেয়ারের খাতা থেকে তাঁর নাম কাটা গেছে, তারপরও তিনি এখনও পৃথিবীর সবথেকে ধনী লেখক।

সানডে টাইমস ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের ধনীদের তালিকার হিসেব রাওলিং এর মোট সম্পদের পরিমান ৬৫০ মিলিয়ন (পঁয়ষট্টি কোটি) পাউন্ড অথবা ৮৫০ মিলিয়ন (পঁচাশি কোটি) মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। এই পরিমান সম্পদ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথেরও নেই।

২০১৭ সালের প্রথম ভাগে মঞ্চনাটক “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি কার্সড চাইল্ড” এবং ফ্যান্টাসটিক বিস্টস্ সিনেমার জন্য কমপক্ষে ৯৫ মিলিয়ন ডলার রাওলিং এর এ্যাকাউন্টে জমা হয়।

জে.কে রাওলিং এর প্রকাশিত বই সমূহ: (হ্যারি পটার সিরিজ)

০১ – হ্যারি পটার এ্যান্ড দি ফিলোসফারস স্টোন
ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডনে ফেরার সময়ে ট্রেনে বসে রাওলিং প্রথম হ্যারি পটারের আইডিয়া পান। কথিত আছে যে তিনি একটি ন্যাপকিনে গল্পের প্রাথমিক ধারনাটি লিখে রাখেন। হ্যারি পটারের সারাংশ ১২টি প্রকাশনা সংস্থার কাছ থেকে বাতিল হয়। “আনলাকি থারটিন” এর ধারনাকে ভুল প্রমাণিত করে ১৩ নম্বর প্রকাশনা সংস্থা “ব্লুমসবেরি (BLoomsbury publishing)  হ্যারি পটার এর প্রথম বই “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি ফিলোসফারস স্টোন” ছাপতে রাজি হয়। প্রথম বইটির জন্য রাওলিং মাত্র ৪০০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমান পাউন্ড প্রাথমিক পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালের জুনে বইটি বাজারে আসে। বইটির বিষয়বস্তু ছিল এক অনাথ বালক হ্যারি পটার কে ঘিরে। খালা খালুর কাছে বসবাস করা হ্যারি তার এগারো বছর বয়সে জানতে পারে যে তার বাবা-মা গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাননি, আমাদের জানা জগতের আড়ালে আরও একটি জগত রয়েছে: জাদুর জগত! সেখানে সবকিছুই জাদুতে চলে।

হ্যারির বাবা-মা আসলে সেই জগতের বাসিন্দা ছিলেন এবং এক ভয়ঙ্কর কালো জাদুকরের সাথে লড়াই করতে গিয়ে তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু লিলি এবং জেমস পটারকে মারার পর সেই জাদুকর যখন হ্যারির দিকে তার জাদুদন্ড ফিরিয়ে “কিলিং কার্স” নিক্ষেপ করে কার্সটি হ্যারিকে না মেরে সেই কালোজাদুকর লর্ড ভল্ডেমোর্টকে আঘাত করে, এবং লর্ড তার ক্ষমতা হারিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর হ্যারি সমস্ত জাদুর জগতে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। কিন্তু এসব সে তার এগারো বছর বয়সের আগ পর্যন্ত জানতে পারেনি। সে জাদুর জগতের সবথেকে বিখ্যাত বিদ্যালয় “হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্রাফট্ এ্যান্ড উইজার্ডি তে ভর্তি হয় এবং পরবর্তী ছয়টি বই জুড়ে এক টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এ্যাডভেঞ্চারের কেন্দ্র হয়ে পড়ে হ্যারি।

০২- হ্যারি পটার এ্যান্ড দি চেম্বার অব সিক্রেস্টস
হগওয়ার্টস এ হ্যারির দ্বিতীয় বর্ষের এ্যাডভেঞ্চার নিয়ে লেখা এই বইটির পুরোটায় ভৌতিক আবেশ পূর্ণ রহস্যে ঘেরা একটি টানটান উত্তেজনা পূর্ণ গল্প আছে। আগের বইটির মত ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত চেম্বার অব সিক্রেটস ও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।

০৩- হ্যারি পটার এ্যান্ড দি প্রিজনার অব আজকাবান
১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে হ্যারি পটার সিরিজের তৃতীয় বই “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি প্রিজনার অব আজকাবান” প্রকাশিত হয়। সেই বছরের শেষের দিকে দেখা যায় হ্যারি পটারের তখন পর্যন্ত প্রকাশিত তিনটি বইয়ের তিন বছরে মোট আয় প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে সিরিজটি সেই সময় পর্যন্ত মোট সাড়ে সাড়ে তিন কোটি ৩৫টি ভাষায় অনুদিত হয়েছিল।

০৪- হ্যারি পটার এ্যান্ড দি গবলেট অব ফায়ার
২০০০ সালের জুলাইতে যখন সিরিজের চতুর্থ বই “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি গবলেট অব ফায়ার” বের হয় তখন হ্যারি পটারের জনপ্রিয়তা রীতিমত উন্মাদনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রকাশ হওয়ার খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বইটি ইতিহাসের সর্বকালের সবথেকে দ্রুত বিক্রি হওয়া বই হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। প্রথম মুদ্রণেই বইটির পাঁচ কোটি ত্রিশ লাখ কপি ছাপানো হয় যার এক কোটি আশি লক্ষ কপিই ছিল প্রি-অর্ডার করা।

০৫- হ্যারি পটার এ্যান্ড দি অর্ডার অব দি ফিনিক্স
প্রকাশনার প্রথম তারিখ পিছিয়ে বইটি ২০০৩ সালের জুন মাসে বাজারে আসে। এবং আগের গুলোর মতই বের হওয়ার সাথে সাথে হটকেকের মত দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। এই বইটির মাধ্যমে হ্যারি পটার শুধুমাত্র একটি কিশোর রূপকথার বদলে একটি অলৌকিক হরর থ্রিলারে রূপ নিতে থাকে।

০৬- হ্যারি পটার এ্যান্ড দি হাফ ব্লাড প্রিন্স
পঞ্চম বইটি প্রকাশের পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে ভক্তদের ঘুম হারাম করে অবশেষে ২০০৫ সালের জুলাই মাসে বাজারে আসে হ্যারি পটার সিরিজের ষষ্ঠ বই “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি হাফ ব্লাড প্রিন্স।” – প্রকাশের প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বইটির প্রায় সাত মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়ে যায়। প্রকাশনার ইতিহাসে কোনও বই প্রকাশের প্রথম দিনে এতবেশি বিক্রি হয়নি।

০৭ – হ্যারি পটার এ্যান্ড দি ডেথলি হলোস
হ্যারি পটার সিরিজের সপ্তম ও শেষ বই “হ্যারি পটার এ্যান্ড দি ডেথলি হলোস” বইটি প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু প্রকাশ হওয়ার আগেই বইটি বার্নিস এ্যান্ড নোবেল, বর্ডারস বুকস্টোর এবং আমাজন ডট কম এর ইতিহাসে সবথেকে বেশি অগ্রিম অর্ডারকৃত বই হিসেবে জায়গা করে নেয়। রাওলিং যদিও বলেছিলেন যে আপাতত হ্যারি পটার নিয়ে আর কোনও কাজ করার পরিকল্পনা তাঁর নেই, কিন্তু একদমই যে করবেন না – সেটাও তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। যার প্রতিফলন ২০১৬ সালে দেখা গেছে।

০৮- হ্যারি পটার এ্যান্ড দি কার্সড চাইল্ড
যদিও এটি প্রথমে একটি মঞ্চ নাটক হিসেবে লেখা হয়েছিল, এবং রাওলিং আসলে শুধু গল্পের কাঠামোটি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন (মূল নাটকটির বেশিরভাগই লিখেছিলেন নাট্যকার জন টিফ্যানি এবং পরিচালনা করেছিলেন জ্যাক থর্ণ) – কিন্তু ২০১৬ সালে কার্স চাইল্ডের স্ক্রিপ্টটি বই আকারে বাজারে প্রকাশ হয় এবং রাতারাতি বেস্টসেলার তালিকায় উঠে আসে। সিরিজের মূল বইগুলোর মত এই নাটকের স্ক্রিপ্ট কেনার জন্যেও ভক্তরা বইয়ের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন জমিয়ে দেয়। যদিও অনেক হ্যারি পটার ভক্তই বইটি পড়ে হতাশ হয়েছেন। বলাই বাহুল্য রাওলিং এর গল্প হলেও পুরোটাতে রাওলিং এর লেখনী ছিল না – হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

০৯ – দি টেলস অব ব্রিডেল দি ব্র্যাড
পাঁচ গল্পের এই বইটির কথা হ্যারি পটারের মূল বইয়ের সিরিজে বলা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর এডিনবুরোয় অবস্থিত ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব স্কটল্যান্ডে ২০০ শিশুর জন্য আয়োজিত একটি চায়ের পার্টিতে এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এই বইটি থেকে তাঁর আয়কৃত সমস্ত রয়্যালিটি রাওলিং তাঁর প্রতিষ্ঠা করা একটি দাতব্য সংস্থা “চেলড্রেনস’ হাই লেভেল গ্রুপ” এ দান করার ঘোষণা দেন।

এই সংস্থাটির নাম পরে পরিবর্তন করে “লুমস (খঁসড়ং)” রাখা হয়। লুমস আসলে হ্যারি পটার সিরিজে আলো জ্বালানোর জাদুমন্ত্র। সংস্থাটি পূর্ব ইউরোপের অনাথ শিশুদের কল্যানে কাজ করে থাকে।

বিশ্বের আর একজন অন্যতম জনপ্রিয় লেখক স্টিফেন কিং নিউ ইয়র্ক টাইমস এ লেখা তাঁর একটি কলামে লিখেছিলেন “আমি এই গ্রীষ্মে (১৯৯৯ সালের) রাওলিং এর মায়াবী গল্পের পরবর্তী কিস্তির জন্য তেমনই অস্থির হয়ে অপেক্ষা করছি যেমন ভাবে একটি পটার-পাগল বাচ্চা ছেলে অপেক্ষা করছে।”

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com