সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ঘটকবাড়ির পূজায় অংশ নেন আনারুলরা, উপোসও করেন

উত্তরা ডেস্ক   |   শনিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২১ | প্রিন্ট

ঘটকবাড়ির পূজায় অংশ নেন আনারুলরা, উপোসও করেন

সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন পাঁচশ বছরের পুরনো এই পারিবারিক পূজা। নবমীর দিন পূজা থেকে শুরু করে প্রসাদ নেওয়ার ক্ষেত্রে হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের লোকজনও অংশ নেন।

ওই দিন সেখানে উপস্থিত হন সৈয়দ হোসেন জামাল, আনারুল মিঞারা। সানন্দে তাদের বরণ করে নেন বাড়ির সদস্যরাও। পূজা শেষে সবাই এক বাক্যে বলেন, এই সম্প্রীতির আবহই আমাদের শক্তি।

ঘটকবাড়ির দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এটাই ভারতের অযোধ্যার গল্প। এক চিলতে এই গ্রামটির অবস্থান ভারতের পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ব্লকে।

ঘটকবাড়ির বর্তমান সদস্য হরিচরণ ঘটক জানান, পূজা শুরু করেছিলেন তাদের পূর্বপুরুষ, সাধক অভয় ঘটক। পূজা শুরু হয় গ্রামের বাইরে, অজয় নদের পাড়ে, জঙ্গলের মধ্যে। পাষাণচণ্ডীতলা বাগান নামে ওই আরাধনা-ভূমির চারপাশে ঘন জঙ্গল থাকায় পরে গ্রামের ভিতরে বাড়িতে পূজা শুরু করেন অভয়।

তবে নবমীর দিন সাবেক রীতি মেনে, এখনো ওই পাষাণচণ্ডীতলা বাগানেই চলে আরাধনা। ঘটকবাড়ির বর্তমান সদস্য তথা পুরোহিত হরিচরণ (৫৫) বলেন, ছোট থেকেই দেখে আসছি, ওই দিন সকাল থেকে সাজো-সাজো রব পড়ে। অযোধ্যা তো বটেই, এখানে আসেন বনকাটি, সাতকাহনিয়ার বাসিন্দারাও। আসেন ভিন্ন ধর্মের মানুষও। এটা একান্তই বিশ্বাস এবং সম্প্রীতির জোরের কারণেই ঘটে।

এই তিনটি গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে ১০ হাজার মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। বেশির ভাগই কৃষিজীবী।

কবে থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরাও এই পূজায় যোগ দিচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই সেখানকার লোকজনের। সাতকাহনিয়ার সৈয়দ হোসনে জামাল জানান, এই দিনটির জন্য তারা বছরভর অপেক্ষা করেন।

জামাল বলেন, নবমীর সকালে আমার মতো অনেকেই পূজার জিনিস নিয়ে হাজির হই এখানে। পুরোহিতকে পূজার জিনিস দিই। ভেদাভেদ দূরের কথা, এই পূজার জন্য সকাল থেকে আমরা উপোসও করি।

সাতকাহনিয়ারই সৈয়দ সালাম আজিম, আনারুল মিঞারা বলেন, পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই বসে থাকি। প্রসাদ খেয়ে বাড়ি ফিরি। এ পূজা আমাদের নিজেদের।

এই ‘নিজের’ ভাবনা থেকেই সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এলাকায় পানি ঢোকার পরে, সবাই মিলে পাষাণচণ্ডীতলা বাগানে জমে থাকা বালি, কাদা সরিয়েছেন। পূজার উঠোনে থাকেন ওই এলাকার ইটাভাটার শ্রমিকরাও।

পূজার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্থানীয় রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, এই পাষাণচণ্ডী দুর্গারই আর এক রূপ হিসাবে পূজিত হন। এই পূজাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, এ গ্রামের ঐতিহ্য।

কাঁকসার সিলামপুরের এক মসজিদের মৌলবি মতিউর রহমান খান বলেন, সম্প্রীতির আদর্শই আমাদের দেশকে বেঁধে রেখেছে। অযোধ্যা গ্রামের এই দৃষ্টান্ত সে আদর্শেরই প্রতিফলন।
সূত্র: আনন্দবাজার।

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com