মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

সবুজ নগরী রাজশাহীতে নীড় হারাচ্ছে পাখি

সোহরাব হোসেন সৌরভ   |   শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট

সবুজ নগরী রাজশাহীতে নীড় হারাচ্ছে পাখি

সবুজ নগরী রাজশাহীতে নীড় হারাচ্ছে পাখি। যতই দিন যাচ্ছে গ্রামগুলো শহরে পরিণত হচ্ছে প্রতিদিনই নতুন নতুন দালান, রাস্তাঘাট গড়ে ওঠায় গাছপালা গুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। দিন দিন কমে আসছে গাছগাছালির পরিমান। এ কারণে সবুজ নগরী পরিণত হচ্ছে ইট পাথরের শহরে। এসব গাছ কেটে ফেলার কারণে শামুকখোল, গানচিল, শকুন, ময়না, টিয়া, কোকিলসহ বিভিন্ন অতিথি পাখি গুলো হারিয়ে ফেলছে তাদের নীড়।

সাম্প্রতিক কয়েক বছর আগেই রাজশাহী শহরের কারাগার চত্বরেই শতশত পুরনো বিভিন্ন উঁচু উঁচু গাছে বসবাস ছিল হাজার হাজার পাখির। কিন্তু জেলখানার বাউন্ডারি ও উঁচু দালান নির্মাণ করার কারণেই কেটে ফেলা হয় গাছগুলো এতে করে হাজার হাজার পাখি আশ্রয় নিয়েছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন গাছে কিন্তু সেখানে ড্রেন নির্মাণ করায় আবারো নীড় হারা হয় পাখিগুলো।

প্রতিদিনই গাছগুলো কোনো না কোনো অজুহাতে কাটা হচ্ছে। অথচ যে সকল গাছ গুলো কাটা হচ্ছে পাখির বাসা আছে কি না তা লক্ষ্য করা হচ্ছে না এর কারণে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আরডি ড্রেন নিরমার্ণের অজুহাতে দুইটি গাছ কেটে ফেলা হলে গাছে বাসাবাধা শামুকখোল পাখি ও বাচ্চাসহ শ্রায় শতাধিক পাখি মারা যায়। পাখি মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্যপ্রাণী অধিদপ্তর ৮০টি পাখি হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা করা হয় রাজশাহী কোর্টে।

তার পরেও রাজশাহী প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল (রুয়েট)’এ কেটেফেলা হয় দুই গাছ, এই গাছেও ছিলো বিভিন্ন পাখির বসবাস। শুধু রুয়েট নয় রাজশাহীতে যেন গাছ কাটা ধুম পরেছে স্কুল কলেজ গুলোতে প্রতিদিন কোন না কোন অজুহাতে শত শত পুরনো গাছ কাটা হচ্ছে।

শুধু পাখি গুলো গাছ কেটে যে নীড় হরাছে তা নয় অনেক পাখি শিকারিদের কারনেও আজ অনেক পাখি আজ নীড় হারা হচ্ছে শীত মৌসুমে রাজশাহী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় এসব পাখি দেখা যায় যেমন বালি হাঁস,বক,জলপিপি,কোম্বডাক,সরালী, কাস্তেচাড়া পানকৌড়িসহ বিভিন্ন পাখি আনাগুনা থাকে। তবে এসব পাখির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেণ শিকারিরা। আইনের তোয়াক্কা না করে নগদ অর্থের লোভে অভিনক কৌশলে অতিথি পাখিসহ দেশীও পাখি নিধনে তৎপর হয়ে উঠেছে শিকারিরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন , ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও রাজশাহী অঞ্চলে খুব বেশি সংখ্যক শামুক খোল চোখে পরতো না। কিন্তু এখন অনেক পাখি এই এলাকায় দলবদ্ধভাবে বাস করছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও পর্যাপ্ত খাবারের উৎস থাকায় গত সাত থেকে আট বছর ধরে শামুক খোল পাখিরা এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে। অথচ এসকল পাখিগুলো বারবার নীড় হাড়াছে।

উত্তরা প্রতিদিন/তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com