রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি ৩ গ্যাংস্টার নিহত

বিদেশ ডেস্ক   |   শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট

দিল্লির আদালতে গোলাগুলি ৩ গ্যাংস্টার নিহত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি আদালতের ভেতরে গোলাগুলিতে এক গ্যাংস্টারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উত্তর দিল্লির রোহিণী আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, গোগীর ওপর হামলাকারীরা তাঁর প্রতিপক্ষ গ্যাং টিল্লু দলের সদস্য। গত কয়েক বছরে এ দুই দলের লড়াইয়ে অন্তত ২৫ জনের প্রাণ গেছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লির কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগীকে গতকাল দুপুরে রোহিণী আদালতে আনা হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলার শুনানি ছিল। আদালতের ২০৭ নম্বর ঘরে তাঁকে নেওয়া হয়। সেখানে আইনজীবীদের বেশে আসা দুই সন্ত্রাসী গোগীকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই ওই গ্যাংস্টারের মৃত্যু হয়। সেখানে পুলিশের পাল্টা গুলিতে হামলাকারীরাও প্রাণ হারান। তাঁদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে এক নারী আইনজীবীও আছেন।

রোহিণীর উপপুলিশ কমিশনার প্রণব তয়াল বলেন, আইনজীবীর পোশাক পরে ওই দুই হামলাকারী আদালতের ভেতরে ঢুকেছিলেন।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা বলেন, প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের দুই সদস্য আদালতের ভেতরে ঢুকে গোগীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

রাকেশ আস্থানা বলেন, পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে দুই হামলাকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গোগীসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন।

সাধারণ পরিবারের ছেলে জিতেন্দ্র মান হঠাৎ গ্যাংস্টার গোগী হয়ে ওঠার গল্পটা সিনেমাকেও হার মানায়। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, খুন করেই অপরাধ জগতে প্রবেশ গোগীর। তখন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধানন্দ কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি। অপরাধ জগতের সঙ্গে এর আগ পর্যন্ত তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। কলেজে ভোটের আগে বড়জোর দলবল পাকিয়ে সামান্য ধমক-চমক দিতেন। ছাত্র ইউনিয়নের ‘দাদা’। প্রিয় বন্ধু সুনীলের সঙ্গে হঠাৎ শত্রুতাই গোগীকে গ্যাংস্টার বানিয়ে দেয়। কলেজ ভোটের সময় প্রতিহিংসাবশত সুনীল ওরফে টিল্লুর এক বন্ধুকে গোগী খুন করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। ২০১০ সালের এ ঘটনার পর থেকেই গোগী বনাম টিল্লুর দ্বৈরথ দিল্লির কুখ্যাত ‘গ্যাংওয়ার’ বা দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে পরিণত হয়।

২০১১ সালের পর থেকে পুরোপুরি অপরাধ জগতে ঢুকে পড়েন গোগী। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০। চাঁদাবাজি, খুন, জখম, রাহাজানিতে গোগীর দলের দৌরাত্ম্যে দিল্লির মানুষ ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত একসময়। রাতবিরাতে মাঝেমধ্যেই গোগীর দল রাস্তায় গাড়ি অপহরণ করতে বেড়াত। কাছাকাছি কেউ থাকলে তাকে মেরে ফেলাই ছিল গোগীর নীতি।

এসবের মধ্যে টিল্লুর দলের সঙ্গে তাঁদের দলের সংঘর্ষও সমান তালে চলছিল। ২০১৬ সালে গোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তত দিন গোগীর শক্তি বেড়েছে। জেলের মধ্যে থেকেই নেটওয়ার্ক সামলানোর পাশাপাশি টিল্লুকেও শেষ করার ফন্দি আঁটেন। গোগীর দলে তখন নাম লেখানোদের মধ্যে জাতীয় স্তরের বক্সিং খেলোয়াড় থেকে নারী কাবাডি খেলোয়াড়ও ছিলেন। তাঁদের সাহায্যেই তিহার জেল থেকে আদালতে যাওয়ার পথে পালিয়ে যান গোগী। ফের শুরু হয় গোগীকে ধরতে চোর-পুলিশ খেলা।

পাঁচ বছরের চেষ্টায় ২০২০ সালের মার্চে ফেসবুকে আড়ি পেতে গোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তত দিনে অবশ্য তিনি হরিয়ানার এক নামি লোকগায়িকা হর্ষিতা দাহিয়াকে খুন করেন। তাঁরই মতো আরেক গ্যাংস্টার বীরেন্দ্র মানকেও খুন করেন। এমনকি ভিডিও রেকর্ড করে জানান, পবন আঁচল ঠাকুর নামে বিরোধী গ্যাংস্টারদের দলের এক ঘনিষ্ঠকেও খুন করেছেন তিনি। একের পর এক খুন করেই চলছিল গোগীর দল। এর পরও পুলিশ তাঁর নাগাল পায়নি। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সিদ্ধহস্ত গোগী অবশ্য শেষ দানে একটু ভুল করে ফেলেন। দিল্লির এক বিখ্যাত ক্যাফেতে বসে নিজের ছবি পোস্ট করেন তরুণ গ্যাংস্টার। সেই ছবি দেখেই গোগীকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। এর পর থেকে প্রায় দেড় বছর জেলে থাকাকালে জেলের ভেতরে থেকে গোগী আরো অনেক অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই শুক্রবার দিল্লির রোহিণী আদালতে তোলা হয় তাঁকে। সেখানে গোগীর দলের বাকি সদস্যরাও ছিল।

সূত্র:কালেরকণ্ঠ

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com