শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

লবণাক্ত জমিতে ঘটবে কৃষির বিপ্লব :কৃষিমন্ত্রী

উত্তরা ডেস্ক   |   সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট

লবণাক্ত জমিতে ঘটবে কৃষির বিপ্লব :কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা ধান, ডাল, তরমুজ, আলু, ভুট্টা, বার্লি, সূর্যমুখী, শাকসবজিসহ অনেক ফসলের লবণাক্ততা সহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। রবিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলায় ঘেরের আইলে আগাম শিম চাষ ও অফসিজন তরমুজ চাষ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসলের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উপকূলবর্তী বিপুল এলাকার চাষীদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান আছে। চাষীরা এসব ফসল চাষ করলে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় নতুন করে কৃষিবিপ্লব ঘটবে। এ অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে। মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা হচ্ছে উপকূলীয়। লবণাক্ততার কারণে এ এলাকায় সারা বছরে একটি ফসল হতো। আমন ধান তোলার পর বছরের বাকি সময়টা মাঠের পর মাঠ জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকত। এই প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে বছরে কিভাবে দুই বার বা তিন বার ফসল চাষ করা যায় সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে আসছি। ইতোমধ্যে অনেক সাফল্য এসেছে। এটিকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে, যাতে এ এলাকায় সারা বছর ধরে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি কাজে সেচের পানির সমস্যা দূর করতে খুলনা, বাগেরহাটে ৬ শতাধিক খাল খনন, পুনর্খনন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলা আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নায়ায়ণ চন্দ্র চন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ আসাদুল্লাহ, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোঃ বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খুলনার উপপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে উপকূলীয় এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ২৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষযোগ্য ২১ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর। আর লবণাক্ত এলাকার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর। এছাড়া লবণ পানির ভয়াবহতার কারণে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় ৫ লক্ষাধিক হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যায়।

মৃত্তিকা গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের জরিপ মতে, খুলনার মোট ২ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে লবণাক্ত জমির পরিমাণ এক লাখ নব্বই হাজার হেক্টর। যা মোট আবাদযোগ্য জমির ৮৯ শতাংশ।

সূত্র:জনকণ্ঠ

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুর ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com