শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ইজারাদার-জেলে দ্বন্দ্ব চরমে

উত্তরা ডেস্ক   |   শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০২১ | প্রিন্ট

বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ইজারাদার-জেলে দ্বন্দ্ব চরমে

মৎস সপ্তাহ ২৮ আগষ্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর। ভরা বর্ষার মৌসুম এখন। জেলেরা প্রচুর ব্যস্ত থাকে মাছ ধরতে। এমনি সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে লীজ দেয়া কয়েকটি বিলে মাছ ধরা নিয়ে ইজারাদার ও জেলেদের মাঝে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রহনপুর ও রাধানগর ইউনিয়নের ছোট ও বড় বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামের জেলেদের সাথে বিল ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারন করেছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই এ দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। একটি বিলের মালিকানার দ্বন্দ্ব নিয়ে ইজারাদার কর্তৃক দরিদ্র জেলেদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে রাধানগর ইউনিয়নের বিভিষন গ্রামের দরিদ্র জেলেরা মানববন্ধন ও সারাদিন মাছ ধরা বন্ধ রেখে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। গত ১৩ মার্চ ওই বিলের লিজ গ্রহন করে রাধানগর ইউনিয়নের নগরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। কিন্তু বিলের লিজ গ্রহীতা বিভিষন গ্রামের দরিদ্র জেলেদের জলাশয়ের সীমানার বাইরে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে দিচ্ছে না। এছাড়া জেলেরা ইজারামুক্ত এলাকায় মাছ ধরতে গেলে গত ২৩ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজকোর্টে নগরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি দরিদ্র জেলেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার মৎস্যজীবিরা ফুঁসে উঠে।

রাধানগর ইউনিয়নের ঘোলাদিঘী গ্রামের মৎস্যজীবি কবির হোসেন বলেন, আমরা দরিদ্র মৎস্যজীবি, কেন আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিবে।তিনি আরও জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমরা মাছ শিকার করে কোন রকমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকি।

বিভিষণ গ্রামের মৎস্যজীবি দুরুল হোদা বলেন, সরকার আমাদের মৎস্যজীবি কার্ড দিয়েছেন। জাল যার জলা তার, এ নীতিতে আমরা উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরছি। ইজারাদারের লিজকৃত সীমানায় আমরা মাছ ধরি না। এছাড়া তাদের লিজকৃত সীমানা বাঁশের খুটি দ্বারা চিহ্নিত করা আছে। সেই সীমানার বাইরে আমরা মাছ ধরি।

মামলার বিষয়ে এলাকার ইউপি সদস্য আকতারুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র মৎস্যজীবিদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা হয়রানি করছে । আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মামলার বিষয়ে নগরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি সভাপতি আব্দুল গনির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন. বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আমার এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।

এ বিষয়ে রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ জানান, তার ইউনিয়নে ছোট বড় প্রায় ৮-১০টি বিল রয়েছে। যা ভূমি মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে ইজারাদার ও জেলেরা নিয়ম মেনে কাজ করলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মাছ ধরা নিয়ে ইজারাদার ও জেলেদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসনে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) শাহরিয়ার নজির কে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:০৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com