সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হালনাগাদ হচ্ছে সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো

উত্তরা ডেস্ক   |   সোমবার, ২৩ আগস্ট ২০২১ | প্রিন্ট

হালনাগাদ হচ্ছে সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথমে শুধু মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জনবল কাঠামো হালনাগাদ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থা এবং সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো হালনাগাদ করা হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্নিষ্টদের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

গতকাল রোববার সরকারি দপ্তরের বিদ্যমান পদের বিষয়ে পর্যালোচনা এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অর্গানোগ্রাম হালনাগাদকরণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সচিব সমকালকে বলেন, সরকারি সব দপ্তরের টিওঅ্যান্ডই (টেবিল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইকুইপমেন্টস) যুগোপযোগী ও হালনাগাদকরণের বিষয়ে সব সচিব একমত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাই জনবল কাঠামো হালনাগাদ করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে জনবল কাঠামো হালনাগাদ না হওয়ায় অনেক শূন্যপদ পূরণ করা যাচ্ছে না। আবার নতুন পদ সৃজনেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে যথাসময়ে সরকারি সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো হালনাগাদ বহু কষ্টসাধ্য কাজ। দীর্ঘদিনের পুরোনো কাগজপত্র খুঁজে বের করতে হয়। তাই রুটিন কাজের বাইরে সরকারি কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেননি। দীর্ঘ ৩৮ বছরের পুরোনো জনবল দিয়ে সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন পে-স্কেলের কাজ শুরু হলে জটিলতা আরও বাড়বে। কারণ, জনবল ও পে-স্কেল পরিপূরক বিষয়।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সমকালকে বলেন, জনবল হালনাগাদ করা একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে শুধু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জনবল হালনাগাদ করলে হবে না। সরকারি সব দপ্তর ও সংস্থার জনবল হালনাগাদ করতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ করে। তাই সচিবরা হয়তো চাচ্ছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই কাজটি করা হোক। তবে দেশের সব সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে না। এ জন্য সাবেক দক্ষ সচিব, লোকপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিষয়ে অভিজ্ঞ লোকজনকে দিয়ে কমিটি করলে দ্রুত কাজ হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্নিষ্ট সরকারি দপ্তরের। গত বছর জুলাই মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে ১৮ লাখ ২১ হাজার ২৮৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ জন কর্মরত ছিল। ফাঁকা ছিল তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি পদ। যা ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ পদ।

শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকার বহুবার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু জনবল কাঠামো হালনাগাদ না হওয়াসহ নানা জটিলতায় বেশিরভাগ শূন্যপদই পূরণ করা যায়নি। এর মধ্যে গত বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময় সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ ছিল। পরে কিছু নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও সংখ্যায় তা সামান্য।

সূত্র: সমকাল

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৩ আগস্ট ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com