শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নিজেকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিল আমরুল্লাহ সালেহ

উত্তরা ডেস্ক   |   বুধবার, ১৮ আগস্ট ২০২১ | প্রিন্ট

নিজেকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিল আমরুল্লাহ সালেহ

রাজধানী কাবুলসহ দেশের বেশিরভাগ প্রদেশ তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার মধ্যেই আফগানিস্তান ছেড়ে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির পালিয়ে গেলেন। কিন্তু তার সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ এখনো পালাননি। তবে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

আর আত্মগোপনে থেকেই তালেবানকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন তিনি। নিজেকে দেশের বৈধ ও সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণাও দিয়েছেন।

মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

আমরুল্লাহ সালেহর আত্মগোপনের স্থান বিষয়ে জানা গেছে, ১৯৯০ এর দশকেও তালেবানের হাতে পতন হয়নি এমন এক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষার দুর্গ হিসেবে পরিচিত পাঞ্জশির উপত্যকায় লুকিয়েছেন আমরুল্লাহ সালেহ। গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৯০ এর দশকেও তালেবানের হাতে পতন হয়নি ওই উপত্যকা। এমনকি সোভিয়েত আমলেও এই উপত্যকা জয় করতে পারেনি কেউই। সেখানে স্থানীয় একটি মিলিশিয়া বাহিনীর কমান্ডার মাসুদের ছেলেকে নিয়ে তালেবানকে মোকাবিলায় পাঞ্জশিরে গেরিলা আন্দোলনের জন্য মিলিশিয়াদের সংগঠিত করছেন বলে একটি ছবিতে দেখা গেছে।

ওই উপত্যকার এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা তালেবানকে পাঞ্জশিরে প্রবেশ করতে দেব না। আমরা সর্বশক্তি এবং ক্ষমতা দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়ব।’

আফগানিস্তানের বৈধ ও সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণাকারী কে এই আমরুল্লাহ সালেহ?

জানা গেছে, এক সময় গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন আমরুল্লাহ সালেহ। পরবর্তীতে আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিশোর বয়সে বাবা-মা হারানো সালেহ ১৯৯০ এর দশকে গেরিলা কমান্ডার মাসুদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

সালেহ কেন তালেবানদের ঘৃণা করেন সে বিষয়ে গত বছর প্রভাবশালী সাময়িকী টাইমের এক নিবন্ধনে সালেহ বলেছিলেন, ১৯৯৬ সালে তালেবান রাজধানী কাবুলের দখল নেওয়ার আগে পর্যন্ত সরকারে কাজ করেছিলেন আমরুল্লাহ। পরে দেশটির কট্টরপন্থী তালেবানরা সালেহকে আটকের উদ্দেশ্যে তার বোনকে নির্যাতন করে। ১৯৯৬ সালের সেই ঘটনার কারণে তালেবানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি আজীবনের জন্য পাল্টে গেছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর সালেহ তালেবানবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন তিনি।

সিআইএর অনুগত হলে তরতর করে উন্নতি ঘটে তার। ২০০৪ সাালে আফগানিস্তানের নবগঠিত গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের (এনডিএস) প্রধান নিযুক্ত হন তিনি।

দায়িত্ব পাওয়ার পর সালেহ তালেবান বিদ্রোহীদের ভেতরে নিজের এজেন্ট তৈরি করেন। এছাড়া পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে গুপ্তচরদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

এসব গুপ্তচর তালেবানদের গতিবিধি ও পরিকল্পনার আগাম তথ্য সালেহকে পাচার করেন এজেন্টরা। ২০১০ সালে কাবুলের শান্তি সম্মেলনে হামলা হওয়ায় আফগানিস্তানের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সালেহকে।

আত্মগোপনে যাওয়ার আগে রোববার এক টুইট বার্তায় আমরুল্লাহ সালেহ বলেছেন, আমাকে যে লাখ লাখ মানুষ শুনছেন আমি তাদের হতাশ করব না। আমি কখনোই তালেবানদের সাথে এক ছাদের নিচে থাকবো না। কখনোই না।

সূত্র: যুগান্তর

উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ আগস্ট ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com