যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্থানীয় সময় রোববার এ বিবৃতির কথা জানায় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা জরুরি। যারা ক্ষমতায় আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন তাদের উচিত আফগানদের  জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা।

এতে বলা হয়, যারা সেখানে  বসবাসরত, এমনকি যারা দেশের বাইরের রয়েছেন তাদেরকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা উচিত। আফগানদের জন্য সীমান্ত ও আকাশপথ খুলে দেওয়া দরকার অনেক দেশের।

বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের জনগণ নিরাপত্তা এবং মর্যাদায় বসবাসের যোগ্য। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আমরা তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। যারা চলে যেতে চান, তাদের নিরাপদে যেতে দেয়ার জন্যও তালেবানদের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা আর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে ওইসব দেশ।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, কাতার এবং যুক্তরাজ্য।

একের পর এক শহর দখলের পর সর্বশেষ রাজধানী কাবুল নিজেদের করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা।কাবুল দখলের পর তালেবান এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হয়েছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নায়েম  বলেন, ‘আফগান জনগণ ও মুজাহিদিনদের জন্য আজ একটা মহান দিন। ২০ বছরের ত্যাগ ও চেষ্টার ফল দেখতে আজ তারা দেখতে পাচ্ছে। আল্লাহকে ধন্যবাদ, দেশে যুদ্ধ শেষ হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেনা প্রত্যাহার করতে আফগান তালেবানের সঙ্গে চুক্তি সই হয় ওই সময়।

তবে জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার পুরোপুরি শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করেন। সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে এরই মধ্যে।এমন পরিস্থিতিতেই তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ হামলার পর আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে আফগানিস্তানে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী।

এরপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী এবং পরে তাদের সহায়তায় গড়ে ওঠা আফগান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের যুদ্ধ চলে আসছিল। সর্বশেষ গত ১ মে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকে তালেবানের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

সূত্র: সমকাল
উত্তরা প্রতিদিন/ তৌফিকুল ইসলাম