বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নাম যাওয়া ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুৎসা, প্রগতিশীল শিক্ষকদের নিন্দা

চলতি সপ্তাহে উপাচার্য পাচ্ছে রাবি!

উত্তরা প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৮ আগস্ট ২০২১ | প্রিন্ট

চলতি সপ্তাহে উপাচার্য পাচ্ছে রাবি!

হাবিবুর রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু

গত ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিদ্যাপীঠের উপাচার্য নিয়োগ হয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির তিনজন সিনিয়র শিক্ষকের নামের একটি ফাইল সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন উপাচার্য পেতে যাচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়া তালিকায় নাম থাকা ওই তিন শিক্ষক হলেন- আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক হবিবুর রহমান, পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু এবং সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস। এরই মধ্যে সরকারের একাধিক সংস্থা এই শিক্ষকদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে।

এদিকে, ওই ফাইলে নাম থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ১৬ সদস্যের স্বাক্ষরে পাঠানো ওই চিঠি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, তালিকায় নাম থাকা অধ্যাপক হাবিবুর রহমান ১৯৯০ সালে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেড-১ ক্যাটাগরির অধ্যাপক। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নিজ বিভাগের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুই দফায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচনে তিনি আহ্বায়ক পদে জয় লাভ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আওয়ামী রাজনীতি সঙ্গে জড়িত। তার পিতা ডা. ইয়াসিন আলী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। তিনি ১৯৭৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সর্বশেষ তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

তালিকায় নাম থাকা আরেক শিক্ষক অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ বিভাগের সভাপতি হন। এ ছাড়া তিনি তিন বার প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু ১/১১ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় কারাবরণ করেছিলেন। এই অধ্যাপক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তাঁর বড় ভাই গোলাম মাহবুবু সাত্তার মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তাঁর বড় ভাই শহীদ হন বলে জানা গেছে।

সূত্রে আরও জানা যায়, অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তালিকায় একমাত্র নারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস সমাজকর্ম বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের এই শিক্ষক দলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সিন্ডিকেট সদস্য, নিজ বিভাগের সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষ, সহকারী প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব শেষ না করেই তিনি অব্যাহতি নেন। তিনিও পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে সূত্রে জানা গেছে।

উপাচার্যের তালিকায় এই তিন অধ্যাপকের নাম উঠে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ১৬ সদস্যের স্বাক্ষরে পাঠানো ওই চিঠি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতেই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

রাবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মলয় ভৌমিক চিঠির বিষয়ে বলেন, নিউজের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সেখানে স্বাক্ষরকৃত কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না, কয়েকজন স্বাক্ষরের বিষয়ে অস্বীকারও করেছেন। মানে এটা ভুয়া অপপ্রচার। বলা যায়, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উড়ো চিঠি। সরকার এসব চিঠিকে কোন গুরুত্ব দিবেন না। অবশ্যই সৎ, দক্ষ, প্রগতিমনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করবেন সরকার।

রাবির সিনিয়র এক অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন- স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পরিচয়ে এরকম চিঠি দিয়ে থাকলে, এটা অগঠনতান্ত্রিক। আওয়ামীপন্থী সিনিয়র শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো শিক্ষক সমাজেরই ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারা। যাদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে তারা কোনো প্রলোভনে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত; সাধারণত, উপাচার্য নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তিন সদস্যের একটি তালিকা পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে ওই ফাইল রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যায়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তিনজন থেকে একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। এই হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে চলতি সপ্তাহে রাবিতে উপাচার্য নিয়োগ হতে পারে।

উত্তরা প্রতিদিন/একে

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:১০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ আগস্ট ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com