শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নিজ বাড়িতেই নির্বিঘ্নে ঘুমাবেন আতেজান বেওয়া

আকবর আলী,   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

নিজ বাড়িতেই নির্বিঘ্নে ঘুমাবেন আতেজান বেওয়া

পাকা ঘরে ঘুমাতে না পারলেও স্বামীর রেখে যাওয়া কুঁড়েঘর সংস্কার করে সেখানে আপাতত নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারবেন বৃদ্ধা আতেজান বেওয়া (৭৪)। উপজেলা প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এজন্য  বৃহস্পতিবার নতুন ঢেউটিন নগদ টাকা ও খাবার সহায়তা দিয়েছেন প্রশাসন। এই প্রাপ্তিতে খুশি বৃদ্ধা আতেজান বেওয়া। তিনি ও গ্রামবাসীরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৃদ্ধা আতেজান বেওয়া রাজশাহীর বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের কামনগর সোনারপাড়া গ্রামের মৃত জেহের আলীর স্ত্রী।

গত ২৭ জুলাই উত্তরা প্রতিদিন পত্রিকায় ও অনলাইনে ‘মানসিক প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরের বারান্দায় রাত কাটে বৃদ্ধা আতেজান বেওয়ার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে তা উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে খোঁজ খবর নেন। পরে তিনি বৃদ্ধা আতেজান বেওয়াকে স্থানীয় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে নিজ দপ্তরে আমন্ত্রণ জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃদ্ধাকে নিয়ে ওই গ্রামের আলাউদ্দিন নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ইউএনওর দপ্তরে আসেন। সেখানে তাঁকে আপ্যায়ন শেষে ঘর মেরামতের জন্য নগদ ছয় হাজার টাকা ও দুই বান্ডিল ঢেউটিন দেন। এছাড়াও দুই সপ্তাহের খাবার তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বপ্ন পূরণের জন্য পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, সংবাদটি তাঁর নজরে আসার পর জরুরী ভিত্তিতে বৃদ্ধার মাথা গোঁজার জায়গা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর জন্য পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
বৃদ্ধা আতেজান বেওয়া সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আপাতত স্বামীর ভিটাতেই থাকতে পারবেন। ভাঙা টিনের ঘরটি ঠিক হলে আর জামাইয়ের বাড়িতে থাকতে হবে না। নিজ বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে থাকতে পারবেন। এজন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ওই গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত (বিজিবি) সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, এই টাকা ও ঢেউটিন দিয়ে আপাতত ঘরটি সংস্কার করা হবে। গ্রামের লোকজন প্রয়োজন মত বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করবে।

উল্লেখ্য, কামনগর সোনারপাড়া গ্রামের এই বৃদ্ধার স্বামী এক যুগ আগে মারা যাওয়ার পর তিনি এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। মাথা গোঁজার একমাত্র জায়গাটিও বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। ঘরের দেয়াল ও টিনের চালা ভেঙে যায়। ঝুঁকি নিয়ে তাঁর একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলে মাহাবুর রহমান (৪৫) বারান্দায় ঘুমাতে পারলেও অতিরিক্ত জায়গা না থাকায় বৃদ্ধা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেন না। সারাদিন বাড়িতে অবস্থানের পর রাতে গ্রামের এক জামাইয়ের বাড়িতে ঘুমান। তাঁর দুরাবস্থা নিয়ে উত্তরা প্রতিদিনে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

উত্তরা প্রতিদিন/ আমিনুল

 

 

 

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com