বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে পানির সাথে ট্যাবলেট মিশিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ 

উত্তরা প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

রাজশাহীতে পানির সাথে ট্যাবলেট মিশিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ 

যুবককে হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রতিবেশিরা ভিড় করেন বাড়িতে

-উত্তরা প্রতিদিন

রাজশাহীতে এক যুবককে পানির সাথে ট্যাবলেট জাতীয় কিছু খাইয়ে হত্যাকান্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত যুবকের নাম মামুম(২৫)।

নিহত যুবকের মা জানান, গত রোববার সকাল ১০:০০ টার দিকে আমার বাড়িতে হঠাৎ করে জুলমতের বউ সালেহা ও মেয়ে তরিনা এসে আমার বেটা মামুন কে ঘুম থেকে টেনে তুলে বুকের কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় আমার বাড়ি থেকে, জুলমতের বউ এর সাথে ছিল তরিকুল,খাইরুল।

আমরা মনে করেছি তেমন কোন বড় কাহিনি না। আমার বেটা বাড়িতে ১ ঘন্টা পরে টলতে টলতে এবং মুখ মুছতে মুছতে বাড়ির ভেতরে ঢুকে বমি করতে থাকে। আমি মানিকের অটোতে করে আমার ছেলেকে মেডিকেলে এ নিয়ে যাই। ডাক্তার আমার বেটাকে বিষ খাইয়েছে বলে ওয়াস করে।

সে সময় আমার বেটা আমাকে বলে মা আমি মারা যাব। ওরা আমাকে বাঁচতে দিলনা । তুমি ওদের বিচার করো। ওদের কে ছেড়ো না ওরা আমাকে পানিতে সাদা ট্যাবলেট মিশিয়ে জোর করে খাইয়েছে বলতে বলতে আমার বেটা মারা গেলো কিন্তু এটাও বলতে পারেনি আর কি হয়েছে তার সাথে কান্না করতে করতে বলছিলেন নিহত মামুন (২৫) এর মা কাকলী।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫/০৭/২০২১ ইং তারিখে রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানাধীন বড়বাড়ীয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামে।

সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, নিহত মামুন একজন রাজমিস্ত্রী সে ঈদের আগেরদিন মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে আসে। সে বিভিন্ন সাইডে জায়গায় কাজ করে বেড়ায়। অধিকাংশ সময় বাইরেই থাকে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় অত্র এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি তরিকুল, পিতা- জুলমত, এর বাড়ি হতে একটি সাইকেল হারিয়ে যায়। সেই সাইকেল চোর সন্দেহে গত ২৫/০৭/২০২১ ইং তারিখে নিহত মামুন কে সালেহা, স্বামী – জুলমত, তরিনা, পিতা- জুলমত, খাইরুল, পিতা – সিরাজুল, সাং- বড়বাড়ীয়া, থানা- শাহমখদুম, মহানগর রাজশাহীগন মিলে ঘটনার দিন বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় কর্ণহার থানাধীন ডাংগের হাট নামক  স্থানে।

সেখানে জোরপূর্বক মারধর করে এবং একসময় সে পানি খেতে চাইলে পানির সাথে সাদা ট্যাবলেট মিশ করিয়ে পান করানো হয়। উক্ত ঘটনার সত্যতা জানার জন্য অভিযুক্ত দের বাড়িতে গেলে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মেইনগেট বাহির থেকে আটকানো ছিল।

এমনকি এলাকাবাসীর কাছে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলে ঘটনার পর থেকেই বাসায় কেউ নেই। এখন জনমনে প্রশ্ন যে,তারা যদি মামুনকে হত্যা নাই করে থাকে তাহলে বাসা থেকে পালালো কেন কই আর তো লোক গ্রামের পালায়নি। নিহত মামুন এর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন শাহমখদুম থানা পুলিশ।

উক্ত বিষয়ে শাহমখদুম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এর মোবাইলে ফোন দিলে না পাওয়া যাওয়ায় তদন্ত অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমাদের থানায় একটি মেডিকেলের নিয়ম অনুযায়ী অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে ময়নাতদন্ত শেষে এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক উত্তর পাওয়া যাবে এবং পরবর্তী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তরা প্রতিদিন / শাহ্জাদা মিলন

 

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com