বুধবার ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কোরবানির হাটের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ‘অনলাইন পশুর হাট’ 

উত্তরা ডেস্ক   |   বুধবার, ১৪ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

কোরবানির হাটের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ‘অনলাইন পশুর হাট’ 

রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মা নদীর ওইপারে চর খানপুর, খিধিরপুর ও মাজারদিয়া থেকে আসছে বাড়ির পালিত গরু। আজ সকালের দিকে কোর্ট ঢালান আইবাঁধের কাছে নৌকা থেকে নামনো হচ্ছে গরু

-উত্তরা প্রতিদিন

করোনার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট বসা নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু থেকেই। লোকসানের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন পশু ব্যবসায়ীরা। আবার সংক্রমণের ভয়ে হাটে যাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় ক্রেতারা। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ ও খামারিদের লোকসান ঠেকাতে রাজশাহীতে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

রাজশাহী মহানগর ও ৯টি উপজেলায় ডিজিটাল মাধ্যমে জমে উঠেছে অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনা। ফিরেছে মানুষের আস্থাও। এতে দৈনিক দেড় কোটি টাকার পশু বিক্রি হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে অনলাইনে ততই বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনায় ক্রেতাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। খামারিরাও অনলাইনে বিক্রির বিষয়ে প্রচার করছেন।

রাজশাহী মহানগর ও ৯টি উপজেলায় গত ১ জুন থেকে চালু হয়েছে অনলাইনে পশু বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম। এখন পর্যন্ত অনলাইন পশুর হাটে মোট ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার কোরবানিযোগ্য পশুর বেচাকেনা হয়েছে। ঈদ যত কাছে আসছে বিক্রির পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় দেড় কোটি টাকার বেচাকেনা হচ্ছে।

বিভিন্ন উপজেলাভিত্তিক ‘অনলাইন পশুর হাট’ নামের ফেসবুক গ্রুপ ও সরকারি ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৭৪০টি গরু-মহিষ এবং ৪ হাজার ৪৮৬টি ছাগল-ভেড়ার ছবি-ভিডিও আপলোড হয়েছে। বিক্রি হয়েছে ১৩৬টি গরু-মহিষ ও ২২৮টি ছাগল-ভেড়া। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশুর ছবি আপলোড হয়েছে পবা উপজেলায়। সবচেয়ে বেশি বেঁচা কেনা হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলায়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন বলছে, অনলাইনে পশুর হাটের কার্যক্রম পরিচালনায় উপজেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। যেসব খামারি বা কৃষকদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই বা অনলাইনে অদক্ষ তাদের পশুকে অনলাইনের আওতায় আনবে স্বেচ্ছাসেবক টিম।

প্রয়োজনে তারা খামারিদের বাড়ি গিয়ে ছবি, ভিডিও ও পশুর মূল্যসহ সব তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরপর ওই তথ্য ফেসবুক গ্রুপ ও সরকারি ওয়েবসাইটে পোস্ট দেবেন। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্রেতারা নিজেদের সাধ ও সাধ্যমতো কোরবানির পশু বাছাই করে নিতে পারবেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার ‘অনলাইন পশুর হাট’ ফেসবুক গ্রুপে প্রবেশ করে দেখা যায়, গ্রুপে স্থানীয় খামারি ও গৃহে পালন করা পশুর মালিকরা বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন।

অনেকেই তাদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পশুর সংখ্যা, ওজন, পশুর রং এমনকী কোন জাতের গরু ও খাসি সেটিও উল্লেখ করছেন। ক্রেতারা মোবাইলে বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আবার অনেকেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে দরদাম করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেসবুক ও সরকারি ওয়েবসাইটে রাজশাহী মহানগর এলাকার ২৩০টি গরু-মহিষ এবং ১৬১টি ছাগল-ভেড়ার ছবি-ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।

এদিকে, মহানগরজুড়ে অনলাইনে পশুর বেচাকেনা হয়েছে ৩৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকার। পবা উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকার পশু বেচাকেনা হয়েছে। মোহনপুরে ২ হাজার ৬৩৪টি গরু-মহিষ এবং ছাগল-ভেড়া ২ হাজার ৫১৪টি অনলাইন বিজ্ঞাপনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মোট বিক্রি হয়েছে এক কোটি ৭ লাখ ২২ হাজার ৫০৭ টাকার পশু।

রাজশাহীর পুঠিয়ার ১ হাজার ৪৬৭টি গরু-মহিষ এবং ২ হাজার ৩৯টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপন এর বিপরীতে এখনও একটিও পশু বিক্রি হয়নি। দুর্গাপুরে অনলাইন মাধ্যমে ১৭৬টি গরু-মহিষ এবং ৯টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। মোট বেচাকেনা হয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

রাজশাহীর চারঘাটে ৬ হাজার ৩৪২টি গরু-মহিষ এবং ৫ হাজার ৪৭টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপনের বিপরীতে বেচাকেনা হয়েছে মোট ১ কোটি ৯৬ হাজার টাকার পশু। বাঘার ১ হাজার ৮৯৬টি গরু-মহিষ এবং ২৯৩টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপনের বিপরীতে পশু বেচাকেনা হয়েছে ৩৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। বাগমারার ২ হাজার ১৪২টি গরু-মহিষ এবং ৮ হাজার ৭৯৪টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপনের বিপরীতে বেচাকেনা হয়েছে ২৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।

রাজশাহীর তানোরের ১ হাজার ৪৯৩টি গরু-মহিষ এবং ৯৫৩টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপনের বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ১৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

ফেসবুকের দু’টি ও দু’টি সরকারি মাধ্যমে গোদাগাড়ীর ১ হাজার ১৩৪টি গরু-মহিষ ও ৩ হাজার ৪৩১টি ছাগল-ভেড়ার বিজ্ঞাপনের বিপরীতে অনলাইনে বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার পশু।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ইসমাইল হক বলেন, রাজশাহী জেলা-উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত জুন থেকে অনলাইনে পশু বেচাকেনার মাধ্যম তৈরি করা হয়েছে, যা রীতিমতো বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিটি উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দু’টি থেকে তিনটি ও সরকারি ওয়েবসাইটে দু’একটি ‘অনলাইন পশুর হাট’ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া খামারিদের অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

অনলাইনে পশু বেচাকেনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহীতে প্রায় দুই লাখেরও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। দীর্ঘদিনের লকডাউনে খামারিরা তাদের এই বিপুলসংখ্যক পশু নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাদের চিন্তা দূরীকরণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত জুনের প্রথম থেকেই অনলাইনে পশু কেনাবেচার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এতে বর্তমানে রাজশাহীর পশু ব্যবসায়ীদের খামারের পশু ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। দুশ্চিন্তাও দূর হয়েছে।

উত্তরা প্রতিদিন / শাহ্জাদা মিলন

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:২০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com