বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাঘায় পাটের বাম্পার ফলনে লাভের আশায় চাষিরা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

বাঘায় পাটের বাম্পার ফলনে লাভের আশায় চাষিরা

জাগ দেয়ার জন্য পাটগাছ কেটে ফেলছেন চাষিরা - প্রতিনিধি

রাজশাহী জেলার সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল সহ সমতল এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ব্যাপক হারে পাট চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক পাট কাটতে শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, সরকার এ বছর যদি পাটের ন্যায্য মুল্য দিতে পারে তাহলে এর চাষাবাদ ও উৎপাদন আগামিতে আরো বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় সুধী জনদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এক সময় প্রধান অর্থকারী ফসল ছিল পাট, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের এতো বেশি অবদান ছিল যে পাট বাংলাদেশের কাছে স্বপ্নের মত ছিল, এর আঁশের রং অনেকটা সোনালী, আর এই সব মিলিয়ে পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হতো। এ নাম এখনো চলমান। তবে বিগত কয়েক বছর পাটের বাজার মন্দা যাওয়া সহ দেশের পাট শ্রমিকদের মজুরী নিয়ে আন্দোলন এবং পলিথিন ও প্লাষ্টিক এর ব্যবহার চালু হওয়ার ফলে এর আবাদ পূর্বের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে।

বাঘা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পাট উঠার শুরুর দিকে প্রতি মন ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং শেষের দিকে সাড়ে তিন থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ফলে এ বছর অত্র উপজেলায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁদের দেয়া তথা মতে , বাঘার ৭ টি ইউনিয়ন এবং ২ টি পৌর সভায় এ বছর চার হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে।

বাঘার আমোদপুর গ্রামের কৃষক মহাসিন আলী বলেন, এ বছর ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পাটের বাজার ভালো না হওয়ায় পাট চাষ বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম। গত বছর বাজার ভালো যাওয়ায় এবার দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। তার মতে, যদি এ বছর কৃষকরা পাটের ন্যায্য মুল্য পায় তবে এর উৎপাদন আগামিতে আরো বৃদ্ধি পাবে।

বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক গোলাম মোস্তফা ও ফজলু দেওয়ান বলেন, মাটির কারণে আমাদের অঞ্চলে তোষাপাট চাষ উৎপাদনে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। তারা বলেন, বিগত কয়েব বছরের তুলনায় গত বছর কৃষকরা পাটের ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় এবার সবাই কম-বেশি পাট-চাষাবাদ করেছেন। সরকার যদি গত বারের ন্যায় পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে তাহলে এই দেশ পূর্বের ন্যায় আবারও বিদেশে পাট রপ্তানী করে প্রচুর পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অজন করতে সক্ষম হবে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আমরা সকল প্রকার ফসল উৎপাদনের লক্ষে কৃষকদের নানা পরামর্শ , প্রনদনা এবং ট্রেনিং দিয়ে থাকি। তাঁর মতে , উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়ন ও বাউসা ইউনিয়নে এবার ব্যাপক পরিমান পাট চাষাবাদ হয়েছে। আশা করছি এবার লক্ষ মাত্র অতিক্রম করবে।

উত্তরা প্রতিদিন/একে

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com