সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে আমের দাম বেশি, ব্যবসায়িদের মুখে হাসি

উত্তরা ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

রাজশাহীতে আমের দাম বেশি, ব্যবসায়িদের মুখে হাসি

ফজলি আম গত এক সপ্তাহের মধ্যে দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে

-ফাইল ছবি

টানা লকডাউনে এবার মাথায় হাত পড়েছিলো আমচাষিদের। তবে শেষদিকে এসে আমের দাম বাড়তে শুরু করায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটতে শুরু করেছে। যদিও এখন ফজলি ছাড়া তেমন আর আম নাই বাগানে। জাতের আম বলতে এখন ফজলিই ভরসা রাজশাহীর চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে।

তবে এই ফজলিই গত এক সপ্তাহের মধ্যে দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। গতকাল রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারে ফজলি আম প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ৯০০-১০০০ টাকা মণ দরে। আগের দিনের চেয়ে মণে ১০০ টাকা বেড়েছে।

চাষিরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছর শুরু থেকেই প্রতিটি জাতের আমের দাম এক দুইদিন পর পরই মণে অন্তত ১০০ টাকা বাড়ত। কিন্তু এবার আমের সব রেকর্ড ভেঙে যেমন নিম্ন দামে বিক্রি হয়েছে। তেমনি কোনো কোনো জাতের আমের শেষ দিকে গিয়েও দাম না বেড়ে উল্টো কমে গেছে।

এই অবস্থায় রাজশাহীর বাগান থেকে শেষে হয়েছে ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপাল ভোগ জাতের আম। খুবই অল্প পরিমাণে এখনো পাওয়া যাচ্ছে আম্রপালি ও লখনা জাতের। আম্রপালি গতকাল রাজশাহীর বাজারে বিক্রি হয়েছে দুই হাজার পাঁচশ টাকা পর্যন্ত। যদিও গত বছর আম্রপালি এই সময়ে বিক্রি হয়েছে চার হাজার পাঁচশ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে। কিন্তু এ বছর এখনো তিন হাজার টাকা মণ ছূঁতে পারেনি আম্রপালি। তার আগেই শেষ হয়ে যাবে রাজশাহীতে এ জাতের আম।

এ বাজারে আম বিক্রি করতে যাওয়া পুঠিয়ার বেলপুকুর গ্রামের নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন তে বাগানে তেমন আম নাই। যেগুলো ফজলি জাতের আছে, সেগুলোও রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো রাজশাহীতে ফজলি জাতের আম শেষ হয়ে যাবে। তখন গাছে আম বলতে থাকবে আশিনা জাতের। তবে সেটিও খুব বাগানেই থাকে।’

এ বাজারের আরেক আম বিক্রেতা লোকমান আলী বলেন, ‘সবার বাগানে ফজলি আমও থাকে না। যারা কিছু আম রাখতে পেরেছিলেন, সেগুলো বৃষ্টির কারণে ফেটে যাচ্ছে। ফলে এখন না চাইলেই আম নামাতে বাধ্য হচ্ছি। এখন আমের দাম বাড়ছে। কারণ রাজশাহীতে আম একেবারে শেষের দিকে। আমার বাগানে অল্প কিছু ফজলি ছাড়া আর কোনো আম নাই। বেশিরভাগ চাষির বাগানেই একই অবস্থা।’

বাগানের আম ব্যবসায়ী নবিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন ফজলিই পাওয়া যাচ্ছে অল্প পরিমাণে। এর বাইরে একেবারেই অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে লখনা ও আম্রপালি জাতের আম। সোমবার ফজলি বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকা দরে। এছাড়াও আম্রপালি ২৫০০-৩০০০ এবং লখনা বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬ শ টাকা মণ দরে।’

অপর ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা আমের বাগান চুক্তিতে আগেই কিনে রাখেন, এবার সেসব ব্যবসায়ী চরম লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। তবে যারা ফজলি আমের বাগান কিনে রেখেছিলেন, এবং আম সহজে নামাননি তাঁরা এখন শেষদিকে এসে কিছুটা হলেও লোকসান পুশিয়ে নিতে পারবেন। তবে সব ব্যবসায়ীই আম ধরে রাখতে পারেননি। এই সংখ্যা একেবারেই কম। ফলে টানা লকডাউনের কারণে এবার আম চাষিরা যেমন ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন ভালো দাম না থাকায়, তেমনি ব্যবসায়ীরাও লোকসান গুনেছেন।

প্রসঙ্গত,রাজশাহীতেএবার হেক্টর প্রতি গড়ে ১৫ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন হারে আম উৎপাদন হয়। কিন্তু এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার চেয়েও বেশি আম উৎপাদন হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এবার জেলায় ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয়েছে।

সেই হিসেবে ধরা হচ্ছে এবার রাজশাহীতেই অন্তত দুই লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হয়েছে। তবে শুরু থেকেই এবার দাম না থাকায় বেশি ফলণ হলেও চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন।

উত্তরা প্রতিদিন/শাহ্জাদা মিলন

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com