বুধবার ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

তানোরে শিবনদের পানিতে বিলীন কৃষকের স্বপ্ন 

শাকিল আহমেদ   |   মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

তানোরে শিবনদের পানিতে বিলীন কৃষকের স্বপ্ন 

ভারী বর্ষণে শিবনদের পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ডুবে গেছে কৃষকের ধানক্ষেত

-প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরে ভারী বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আশা বৃষ্টির পানিতে শিবনদ ফুলে ফেপে উঠেছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদের আশপাশের পুকুর জশালয়সহ দেড় হাজার বিঘা কৃষকের রোপিত আউশও আমনের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। একারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ উপজেলার হাজারো কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে পুরো উপজেলাজুড়ে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার সমান। এছাড়া আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে, এবারে আউশ চাষে তেমন আগ্রহ নেই কৃষকের। এরপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবার সম্ভাবনা আছে বলে কৃষি অফিসের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আলী রেজা আশাবাদী।

মঙ্গলবার সকালে শিবনদের নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাড়দহ বিল হতে চৌবাড়িয়া ও মালশিরা শিবনদ সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর রোপিত আমনের ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরদিকে, রহিমাডাঙ্গা মৌজার পাঁচশ বিঘা আউশের ক্ষেত ডুবে যাচ্ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার কৃষকরা।

এনিয়ে তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের কৃষক ওমর হাজী জানান, রহিমাডাঙ্গা মৌজায় তার ৯ বিঘা রোপিত আউশ-আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু তার নয়, রহিমাডাঙ্গায় তার মতো আরও কৃষকের আউশ-আমন ক্ষেত ডুবে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিসারদের কাছে সঠিক হিসেব নেই। যার ফলে তারা ভুলভাল তথ্য সরবরাহ করছেন। কম করে হলেও রহিমাডাঙ্গা মৌজায় পাঁচশ বিঘা আউশের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ফলে কৃষি অফিসারকে বন্যা কবলিত ক্ষেত ঘুরে আসার আহবান জানান তিনি।

উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপির বেড়লপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, ভারীবর্ষণে শিবনদের ধারে তার রোপিত ৮ বিঘা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রোপিত এসব ফসলের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে তিনি জানান, ধার দেনা করে শিবনদের ধারে আমন ক্ষেত রোপন করা হয়। বর্তমানে তার রোপিত ক্ষেতের পুরোটায় শিবনদের পানিতে ডুবে গেছে। ফলে তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

শুধু সামাদ নয়, তার মতো চিমনা দমদমা গ্রামের বাসিন্দা তাজিমুল ইসলামের আড়াই বিঘা, সিরাজের ৩ বিঘা, সোহেলের সাড়ে ৩ বিঘা, আক্কাসের ২ বিঘা, ফারুকের ৩ বিঘা ও রেজাউল ইসলামের আড়াই বিঘা ছাড়াও নাম অজানা ওই এলাকার দুই শতাধিক কৃষকের জমিতে রোপিত আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া চৌবাড়িয়া মালশিরা নামক এলাকায় রোপিত আউশ-আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সেখানকার কৃষক তোজাম, আতাউর ও ইসরাফিল জানান, তারা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শিবনদের ধারে আউশ-আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু নদের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদেরও রোপিত ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি নেমে যাবার পর এসব জমিতে যেন পুনরায় ধানের চারা রোপণ করতে পারেন এজন্য সরকারি সাহায্যের দাবি জানান তারা ।

তবে, এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলছেন, ভারীবর্ষণে এসব জমির রোপিত ক্ষেত প্রতিবছরই ডুবে যায়। এবারেও হইতো ১০০ থেকে ১৫০ বিঘা জমির রোপিত আউশ-আমন ক্ষেত ডুবেছে। কৃষকের মনে বোঝ আসে না বিধায় এসব বন্যা কবিলত ডোবা জমিতে ধানের চারা রোপন করে থাকেন তারা। এরপরও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন দপ্তরে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হবে।

উত্তরা প্রতিদিন/শাহ্জাদা মিলন

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com