সোমবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে দুইটি সরকারী হাসপাতালে করোনার কারণে সাধারন রোগিরা চিকিৎসা বঞ্চিত

মুক্তার হোসেন   |   মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

গোদাগাড়ীতে দুইটি সরকারী হাসপাতালে করোনার কারণে সাধারন রোগিরা চিকিৎসা বঞ্চিত

অন্যান্য চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করোনার কারণে ফাঁকা হয়ে রয়েছে

-প্রতিনিধি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাধারন রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স(প্রেমতলী ৫০ শয্যা হাসাপাতাল) করোনার অজুহাতে সাধারন রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।

উপজেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে মাটিকাটা ইউনিয়নের প্রেমতলী নামকস্থানে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকলেও করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে অন্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে না বলে আগত সাধারন রোগীরা অভিযোগ করেন।

গোগ্রামের শেফালী বেগম নামে নারী পেটের পীড়া নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আসেন। কিন্তু চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গিয়ে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বেসরকারীভাবে চিকিৎসা করতে গিয়ে তার খরচ হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। এতে করে গরিব রোগীরা অর্থ অভাবে বাহিরে চিকিৎসা করতে পারে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে কোন ধরনের অপারেশন হচ্ছে না। ব্যবস্থা থাকলেও সিজারিয়ান রোগীদের ভর্তি করা হয় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু তালেব বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৭জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছেন। বাকি ৫জন চিকিৎসককে অন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মরত চিকিৎকরা চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ডাঃ আবু তালেব আরো বলেন, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এদিকে উপজেলা সদরে অবস্থিত গোদাগাড়ী ৩১ বিশিষ্ট হাসপাতালে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক রয়েছে। যন্ত্রপাতি নষ্ট কারণে সার্জারী বিভাগ বন্ধ রয়েছে। স্যালাইন,ওষধ ও খাবার স্যালাইনের সংকট আছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা পত্র ও কিছু প্যারাসিটামল ঔষধ দেয়া হয়। বাকি ঔষধ রোগীদের বাহির থেকে ক্রয় করতে হয়। প্রতিদিন ৫শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট থাকায় গ্যারেজে তালা বন্দী রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একটি পুরাতন এ্যাম্বুলেন্সকে সচল করে কোন রকমে রোগী বহন করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে এই এ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ৯৮ সালের বন্যায় সার্জারী বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তখন থেকে সার্জারী বিভাগ বন্ধ ও পরীক্ষা করা হয় না। তিনি আরো বলেন, আরো ৪ জন অথ্যাৎ ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভালোভাবে দেয়া যাবে।

উত্তরা প্রতিদিন/শাহ্জাদা মিলন

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:২১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com