সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৬৯ বছরে তীর্থভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

আদিত্য রায় রিপন   |   সোমবার, ০৫ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

৬৯ বছরে তীর্থভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

-ফাইল ছবি

৬ জুলাই, মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রাচীন ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর ( রাবি ) ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের সাথে ৬৮টি বছর পার করে ৬৯ বছরে পদার্পণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

দীর্ঘ পথচলায় রাবি প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে। তবে দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে সোচ্চার থাকা এই রাবির পথচলা মোটেই মসৃণ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নানা চোখ রাঙানিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

রাবির ইতিহাস থেকে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায় সুশিল সমাজ। এর প্রেক্ষিতে ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্যে ৬৪ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

দাবির প্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তীব্র আন্দোলন। আন্দোলন ঠেকাতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার গ্রেপ্তার করে ১৫ জন ছাত্র নেতাকে। এতে আন্দোলন আরো গতি পায়। তাদের আন্দোলনে মুখে ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়।

উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার প্রহর শেষে ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীকে উপাচার্য করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে রাজশাহীর বড়কুঠি ও রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ভবনে রাবির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৬১ সালে শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশেই মতিহারের নয়নাভিরাম সবুজ চত্ত্বরে স্থানান্তর করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ৩৭ হাজারে অধিক। শুরুতে দর্শন, ইতিহাস, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, গণিত ও আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১২টি অনুষদের অধীনে রয়েছে ৫৯টি বিভাগ এবং উচ্চতর গবেষণার জন্য রয়েছে ৬টি ইনস্টিটিউট। এছাড়াও রয়েছে ১৩টি একাডেমিক ভবন, ১৭টি আবাসিক হল। যার মধ্যে ১১টি ছাত্র ও ৬টি ছাত্রী হল এবং গবেষক ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মুখ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রথম বুদ্ধিজীবী হিসেবে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা। তার মৃত্যুতে সারাদেশে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাবানল জ্বলে উঠে।

আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরে দেশের ছাত্রসমাজ। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্বেই বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ হবিবুর রহমান, শহীদ মীর আবদুল কাইয়ুম ও শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার। পাকিস্তানীদের অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেছিলেন গণিত বিভাগের শিক্ষক মজিবর রহমান। এছাড়া আরও ত্রিশ জন ছাত্র, কর্মচারী-কর্মকর্তাও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। এরপর স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে নানা ভাস্কর্য ও স্থাপনার মধ্যদিয়ে। যেকেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেই এসব ইতিহাস চোখে ভাসবে। এখানে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্য, সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক, অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য স্ফুলিঙ্গ, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ ইত্যাদি।

দীর্ঘ এই ৬৮ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে দেশ গঠন, দেশের শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি, ক্রীড়াঙ্গণসহ দেশের বাইরেও বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রেখেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামান, কূটনৈতিক এইচটি ইমাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খাইরুজ্জামান লিটন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, অর্থনীতিবিদ সনৎ কুমার সাহা, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন, নাট্যকার মলয় ভৌমিক, প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী এন্ড্রুকিশোর, চলচিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার প্রমুখ।

উত্তরা প্রতিদিন/শাহ্জাদা মিলন

 

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:২৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com