বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নানাবিধ সমস্যায় শতভাগ সেবা পাচ্ছে না জনগণ 

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৪ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

নানাবিধ সমস্যায় শতভাগ সেবা পাচ্ছে না জনগণ 

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

-প্রতিনিধি

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু এর সুফল পাচ্ছেন না জনগণ। হাসপাতাল রয়েছে জনবল সংকট। এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট। দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু নেই ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তাছাড়া পুরাতন ভবনসহ প্রশাসনিক ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গোমস্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার সদর প্রাণকেন্দ্র রহনপুরে অবস্থিত। প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। প্রতিদিন বহিঃবিভাগে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। প্রাতিষ্ঠানিক কিছু সমস্যার কারণে অনেক রোগের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। যেমন গাইনি, সার্জারি, এনেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটর (ওটি) বন্ধ রয়েছে। চালু না করায় এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। তাছাড়া এক্স-রে রুমটিও ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন গত তিন বছর যাবত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া ৪টি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন থেকে অকেজো হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্ত্বরে পড়ে আছে।

হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহের কোন সমস্যা নেই। সঠিকভাবে রোগীরা ওষুধ পাচ্ছেন। করোনা ইউনিট সচল রয়েছে। সেখানে করোনা উপসর্গ রোগীরাও ভর্তি হয়ে সেবা নিচ্ছেন। নিয়ামতপুর, নাচোল, ভোলাহাট শিবগঞ্জ উপজেলার অনেক রোগী এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে আসে। এছাড়া ওইসব উপজেলার করোনার উপসর্গ রোগীরা প্রতিদিন করোনা পরীক্ষা করতে এ হাসপাতালটি আসেন। এদিকে বঃিবিভাগ, আইসোলসন ওয়ার্ড, টিকাদান কেন্দ্রেসহ কমপ্লেক্সে জনসমাগম ও নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা রক্ষীও নেই।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ইনচার্জ) লাইলী খাতুন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২০ জন নার্স কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন মিডয়াইফ। প্রতিদিন ভর্তিকৃত রোগীদের সেবা দিয়ে থাকে তারা। গত এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত করোনার আইসোলসনে বেডে ১৬৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পজিটিভ ৪১ রোগীর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ২ জন ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবাসিক চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, করোনা রোগীদের জন্য ৩৩টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রস্তুত রয়েছে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর টিকা বুধ থেকে ১১হাজার ৯’শ ৮১জন টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১ম ডোজ ৭ হাজার ৮’শ ১৪ জন ও দ্বিতীয় ডোজ ৪ হাজার ১’শ ৬৭ জনকে দেয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, ওটি, আল্টাসন ও এক্সরে মেশিন ঠিক হয়ে গেলে এ উপজেলার জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত সেবা হাতের নাগালে পেয়ে যাবেন।

উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল রোকনপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম তার ৯ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করতে নিয়ে এসে ভর্তি করে তিনি বিপাকে পড়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শিশু সন্তানটি যে চিকিৎসা দেন, তাতে শিশুটির উন্নতি হচ্ছিল না। অনেক রাতে নার্সরা তাকে বলেন, সকালে ডাক্তার আসবে তারপর নতুন ওষুধ লিখে দিবে। সারারাত বাচ্চাটির যন্ত্রণা দেখতে হয় মা-বাবাকে। কি করবেন ভেবে পাচ্ছিল না। অস্থির হয়ে যান। সকালে অন্য এক ডাক্তার চিকিৎসা দিলে তার শিশু সন্তানটি আস্তে আস্তে সুস্থ্য হয়ে উঠেন। শনিবার তিনি তার সন্তানটিকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, সময়মত ডাক্তার ভর্তিকৃত রোগীদেরকে ওয়ার্ড পরিষদর্শনে দেখতে যায়না।

হাসপাতাল সংলগ্ন বাসিন্দা বকুল বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে বিভিন্ন উপজেলার চিকিৎসা নিতে যায় তিন শতাধিক রোগী। হাতপাতালে ভর্তি হন দৈনিক ৮ থেকে ১২ জন। অধিকাংশ লোক নিম্ন আয়ের। আশংকাজনক রোগীরা একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অন্যত্র চলে গেলে বাকি অন্য রোগীরা বিপাকে পড়তে হয়। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৬ জন জনবলের মধ্যে ১৪৪ জন কর্মরত রয়েছেন। শিশু, মেডিসিন, গাইনি, সার্জারি, এনেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিক ৬ জন কনসালটেন্ট নেই। হেলথ এসিস্ট্যান্ট ৪০ জনে আছে ২৯ জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ২জন ও নাইটগার্ড ২ জন নেই। কমপ্লেক্সের ভিতরে বাগান রক্ষণাবেক্ষণ জন্য মালি নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪টি অ্যাম্বুলেন্স অনেকদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। গাড়ীগুলো মেরামত অযোগ্য। জনগণের জরুরী সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপে পার্শ্ববর্তী নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। সেটিকে মেরামত করে জরুরী রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এ অ্যাম্বুলেন্সটিও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

প্রশাসনিক ভবনসহ পুরাতন বিল্ডিংটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালে ফাঁটলসহ বালু ও চুন মাথার উপর প্রায খসে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এ বিল্ডিংটি পুণঃসংস্কার করার জন্য গত ছয় মাস পূর্বে মন্ত্রাণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নতুন অ্যাম্বুলেন্সের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু আছে। এ সিস্টেম দেশের কয়েকটি উপজেলা চালু আছে। তার মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলা অন্যতম। এখানে করোনা রোগীদের জন্য ১০ টি আইসোলেশন বেড রয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহীর পিসিআর ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়ে থাকে।

হাসপাতালের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হলে উপজেলার জনগণ অনেকাংশে স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে যাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

উত্তরা প্রতিদিন/শাহ্জাদা মিলন

 

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com