শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে লালপুরের খামারীরা 

আশিকুর রহমান   |   রবিবার, ০৪ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট

কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে লালপুরের খামারীরা 

দামের আশায় পশু মোটাতাজা করলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় খামারীরা

-প্রতিনিধি

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। এবার কোরবানিকে সামনে রেখে ৩২ হাজারের বেশি গবাদি পশু উৎপাদন করেছেন লালপুরের খামারিরা।

এসব পশু বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে দফায় দফায় লকডাউনের কারণে কোরবানির এসব পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। গতবার ঈদে লোকসানের পর ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও সেই আশার গুঁড়েবালি বলেই ধরে নিয়েছেন এখানকার খামারিরা।

ঈদ উপলক্ষে লালপুর উপজেলার ৭৭৬ টি ছোট-বড় খামারে দেশি-বিদেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন খামারীরা। করোনার প্রাদুর্ভাব ও লাগাতার বৃষ্টির প্রকপে ক্রেতা না থাকায় ও বাজারে পশুর সঠিক দাম না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের পশু ব্যবসায়ী ও খামারীরা।

লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে সোয়া ৩২ হাজারের বেশি পশু। এর মধ্যে গরু ১১ হাজার ৭২৮ টি, ছাগল ২০ হাজার ৩৩ টি ও মহিষ ৪৪৫ টি। যা গত বছরের তুলনায় মোট পশুর প্রায় এক হাজার পশু বেশি। আর এসব পশুর অধিকাংশই প্রস্তুত করা হয়েছে বাসা বাড়িতে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, ‘ছোট খামার গুলিতে ৩-৫টা ও বড় খামার গুলিতে ৫-১০টি করে কোরবানি উপযোগী গরু রাখা আছে। খামারীরা এখন পর্যন্ত গবাদিপশু গুলিকে নিরলস যত্নে লালন-পালন করছে। বাসা বাড়িতে গরু প্রস্তুত করেছন এমন অনন্ত ১০ জন কৃষকের সাথে কথ বলে জানা গেছে ক্রেতা সংকটে গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

উপজেলার দুড়দুড়িয়ার মাহাবুর রহমান নামের এক একজন কৃষক তিনি কোরবানি ঈদ সামনে রেখে দুইটি গরু প্রস্তুত করেছেন। ঈদ ঘনিয়ে আসলেও এখনো গরুর কেনার জন্য তেমন কোন ক্রেতা আসেনি। এবার করোনার কারণে বাজারেও গরুর তেমন চহিদা না থাকায় দাম খুব কম। ২টি গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

উপজেলার কাজিপুর এলাকার ‘হেরা এগ্রো এন্ড ফিশারিজ’ খামারের মালিক আব্দুল মোতালেব রায়হান। তার খামারে কোরবানিতে বিক্রয় উপযোগী গরু রয়েছে ২০ টি। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গরু বিক্রি নিয়ে দিনরাত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তিনি।’

গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গত বছর ও করোনার কারণে গরুর দাম কম ছিলো। তার পরেও যে গরু বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় এ বছর একই সাইজের গরু বিক্রয় হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন পশু হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ‘ছোট সাইজের একটি দেশিয় গরু ৪০-৫০ হাজার টাকা, মধ্যম সাইজের একটি গরু ৫৫-৬৫ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের একটি গরু এক লাখ থেকে ১ লক্ষ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগল ছোট সাইজের ৫-৬ হাজার টাকা, মধ্যম ৭-১২ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকায়।’

লালপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমারী খাতুন ক্রেতা না থাকা ও দাম কমের কথা স্বীকার করে জানান, ‘এবছর খামারীরা তাদের পালনকৃত পশু বিক্রয় নিয়ে অনেকটা বিপদে রয়েছেন। পশু বিক্রি করোনা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। জেলা থেকে এবছরও অনলাইনে পশু কেনাবেচা করার ব্যবস্থা নিবে। আশা করছি এবছরও তারা লাভবান হবে।’

উত্তরা প্রতিদিন/শাহ্জাদা মিলন

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:০৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জুলাই ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com