সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা রাত কাটালেন উপাচার্যের বাসার সামনে

রাবিতে পদায়নের দাবিতে বেগবান হচ্ছে আন্দোলন

উত্তরা প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ | প্রিন্ট

রাবিতে পদায়নের দাবিতে বেগবান হচ্ছে আন্দোলন

রাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অ্যাডহকে (অস্থায়ী) নিয়োগপ্রাপ্তরা নিজ নিজ কর্মস্থলে পদায়নের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। নিয়োগ পাওয়া দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে এখনও ইতিবাচক কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের এই আন্দোলন ক্রমেই বেগবান হচ্ছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ‘৭৩ এর অ্যাক্টের ক্ষমতাবলে সদ্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান গত ৬ মে অ্যাডহকে (অস্থায়ী) ১৩৮ জনকে নিয়োগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিবিরের হাতে নির্যাতিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান কমিটির ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এছাড়া বাকিরা যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী পরিবারের সদস্য।

এই নিয়োগের পরেই প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়। পরে রুটিন উপাচার্যের দায়িত্ব পান উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা। দায়িত্ব পেয়েই তিনি এই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে পদায়ন স্থগিত করে দেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই আন্দোলন শুরু করেন নিয়োগপ্রাপ্তরা। শুরুতে অফিস চলাকালীন সকাল-সন্ধ্যা আন্দোলন সীমাবন্ধ রাখা হলেও মঙ্গলবার থেকে বিরতিহীন আন্দোলন শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সারারাত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, নিজ নিজ দপ্তরে পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন৷ প্রয়োজনে সেখানে তারা রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করবেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই আন্দোলন স্থগিত করবেন না।

নিয়োগপ্রাপ্তদের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ মিটিং ও সিন্ডিকেট সভা স্থগিত হয়ে গেছে। এরপর মঙ্গলবার রুটিন উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা সাংবাদিকদের বিফ্রিংয়ে বলেন, বাধার মুখে তাঁরা সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদানের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান করছেন। তাঁরা বিছানা পেতে কেউ শুয়ে আছেন, কেউ বসে আছেন।

সদ্য চাকরিপ্রাপ্ত ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ৭৩’র অ্যাক্ট অনুযায়ী চলে। সেই অ্যাক্টের ক্ষমতাবলে সদ্য সাবেক উপাচার্য অ্যাডহকে (অস্থায়ী) ১৩৮ জনকে নিয়োগ দিয়ে যান। কিন্তু রুটিন উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা এই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে স্থগিত করেছেন। গণমাধ্যমগুলোও তার কথা অনুযায়ী এই নিয়োগকে অবৈধ বলছে। কিন্তু ৭৩’র অ্যাক্ট অনুযায়ী দেয়া এই নিয়োগকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নাই। তাই গত ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সেই যোগদান অনুযায়ী দ্রুত পদায়নের দাবি জানাচ্ছি। এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।

চাকরিপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান সুমন বলেন, সিন্ডিকেট সভা ও এফসি মিটিং স্থগিত হয়েছে। কিন্তু এসব ঠেকানো আমাদের কাজ ছিল না। আমাদের চাকরিতে যোগদান করা দরকার। এই নিয়োগ বিষয়ে রুটিন উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা একটু উদ্যোগী হলেই সমাধান হয়ে যেত। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে সিন্ডিকেট-এফসি করার অনুমতি নিয়ে আসছেন। কিন্তু আমাদের পদায়ন বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, বরং নিয়োগ বাতিলের পায়তারা করছেন। তাই আমাদের পদায়ন করে যতক্ষণ পর্যন্ত যোগদান করতে দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে। কেননা, আমাদের এই নিয়োগ আলোচিত হলেও অবৈধ নয়।

নিয়োগপ্রাপ্ত ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, রাবি শাখার সাবেক সভাপতি গোলাম মর্তুজা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৭৩ এর অ্যাক্টের ক্ষমতাবলে সদ্য সাবেক উপাচার্য আমাদের নিয়োগ দেন। কিন্তু রুটিন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা অবৈধভাবে আমাদের এই নিয়োগটি স্থগিত করেন, যা পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারিতার জায়গা থেকে করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা রুটিন উপাচার্যের সাথে কথা বললেও তিনি বারবার মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশ, স্বেচ্ছাচারিতা করে প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা এই স্থগিতাদেশ দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের সদস্যদের চাকরিহারা করার ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু আমরাও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এভাবে রাস্তাতেই থাকবো এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, আমাদের আস্থার শেষ ঠিকানা, মমতাময়ী মা, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় এই নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক সমাধান দেবেন বলে বিশ্বাস করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী মঙ্গলবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাড়ির সামনে এই প্রতিবেদককে বলেন, সিন্ডিকেট সভা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা যোগদানের দাবিতে অবস্থান করছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, এ জন্য তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকছেন।

আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি যিনি তার মেয়াদ নিয়ম অনুযায়ী শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে যিনি দায়িত্বে আছেন তিনি ভারপ্রাপ্ত তথা রুটিন দায়িত্বের। এ অবস্থায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া কঠিন। পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হতো।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতেই বিফ্রিংয়ে রুটিন উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, তাঁরা যে দাবি করেছেন, তা পূরণ করা তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার জড়িত।

অন্যদিকে, রুটিন উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা কোনো ধরনের লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়াই একাই এই নিয়োগে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা। ফলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের আন্দোলনের মুখে গত শনিবার (১৯ জুন) ফাইনান্স কমিটির সভা স্থগিত হয়ে যায়।

একই আন্দোলনে মঙ্গলবার (২২ জুন) সিন্ডিকেট সভাও করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন নিয়োগপ্রাপ্তরা। কারণ এই নিয়োগ আলোচিত হলেও অবৈধ নয়, উল্লেখ করেন তারা।

উত্তরা প্রতিদিন/আরএস

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:১২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com