রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে ভীতি নয়, সহযোগিতা দরকার

মুশতাক হোসেন   |   রবিবার, ৩০ মে ২০২১ | প্রিন্ট

সীমান্তে ভীতি নয়, সহযোগিতা দরকার

মুশতাক হোসেন

এখন যাকে ভারতীয় ধরন বলা হচ্ছে, আমি তাকে বলব করোনাভাইরাসের চার নম্বর উদ্বেগজনক ধরন। প্রথমটি যুক্তরাজ্যে, দ্বিতীয়টি দক্ষিণ আফ্রিকায়, তৃতীয়টি ব্রাজিলে এবং চতুর্থটি ভারতে শনাক্ত।
এসব ধরন সারা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটাকে আমি বলতে চাই, ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া ধরন। ভারতে এ ধরন যেভাবে সংক্রমণকে একটি শীর্ষবিন্দুতে নিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে কমছে। আমাদের এখানেও নেপালের মতো ছড়িয়ে পড়ার একটা আশঙ্কা ছিল। কিন্তু খুব দ্রুততার সঙ্গে সীমান্তে যে ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে, তার জন্য ঢেউটা ধীর গতিতে প্রবেশ করছে।

মহামারি কখনোই ঠেকানো যায় না। এর গতি কমানো যায়। আমাদের সীমান্তে নেওয়া ব্যবস্থাকে মোটামুটি কার্যকর বলেই আমরা দেখছি। এই ব্যবস্থায় ঢিলেঢালা ভাব যেন না আসে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের ভেতরেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এক নম্বর (যুক্তরাজ্য) ও দুই নম্বর ধরন (দক্ষিণ আফ্রিকা) আছে। দেশের ভেতরে চার নম্বর ধরন (ভারতীয়) ছড়িয়ে পড়া বিচিত্র নয়। ইতিমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাঁরা সীমান্তের ওপারে যাননি, তাঁদের মধ্যেও এ ধরন শনাক্ত হয়েছে।

সীমান্তে যেভাবে ব্যবস্থাপনা হচ্ছে, তেমন দেশের ভেতরেও সেটা করতে হবে। দেশের ভেতরে শনাক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই মৃদু লক্ষণযুক্ত, তাই সবাইকে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে না। তাঁদের জন্যও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের ব্যবস্থা করতে হবে, তাঁদের নিজ ঘরে আইসোলেশন (বিচ্ছিন্ন করা) নিশ্চিত করতে সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের যদি আর্থিক সমস্যা থাকে, তবে সামাজিক সহায়তা দিয়ে আইসোলেশন ও পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিকভাবে বৈষম্য ও হেয়প্রতিপন্ন করা যাবে না। প্রান্তিক মানুষদের সহায়তায় অবস্থাসম্পন্নদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, যাঁরা অস্থায়ীভাবে কাজ করেন তাঁরা যেন কাজ না হারান। শনাক্ত রোগী ভাসমান মানুষ হলে হাসপাতালের বিশেষ কোনো ওয়ার্ডে তাঁদের রাখা যেতে পারে।

সীমান্ত এলাকার অনেক নাগরিক অনানুষ্ঠানিকভাবে যাতায়াত করেন। এমনও পরিবার আছে যাদের অর্ধেক সদস্য এপারে, অর্ধেক ওপারে থাকে। এখন হয়তো সেই যাওয়া-আসা কম কিন্তু যাঁরা চলে এসেছেন, তাঁদের আইনশৃঙ্খলার ভয়ভীতি না দেখিয়ে স্বেচ্ছায় সঙ্গনিরোধে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাঁদের পরীক্ষা করানো, খাবার দেওয়ার যদি প্রয়োজন হয়, তা-ও দিতে হবে। তাঁদের আসামি হিসেবে দেখলে তাঁরা ধরা দেবেন না। অন্য জায়গায় চলে গিয়ে বরং সংক্রমণ ছড়াবেন।

সীমান্তে বিরাটসংখ্যক মানুষ অনানুষ্ঠানিক যাতায়াত করে। এখন এসব ব্যক্তিকে ধরে পত্রিকায় নাম বা ছবি দিয়ে দিলে উল্টো ফল দেবে।

দেশের ভেতরে ও সীমান্তে শনাক্ত রোগীদের ব্যবস্থাপনা, সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং টিকা দেওয়া—এই তিনটি বিষয় এখন দরকার। এভাবে সংক্রমণের জানা উৎস, অজানা উৎস এবং ভবিষ্যৎ উৎস—তিনটির ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাটা দরকার।

লেখক : উপদেষ্টা, আইইডিসিআর

উত্তরা প্রতিদিন/একে

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:২৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ মে ২০২১

uttaraprotidin.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com