বৃহস্পতিবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোমস্তাপুরে সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিবেদক   |   রবিবার, ৩০ মে ২০২১ | প্রিন্ট

গোমস্তাপুরে সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে যানবাহন -প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ইসলামপুরগঞ্জ বিল কুজোইন ঘাট এলাকার একটি ৯০ মিটার সেতুর কারণে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান ঘরে তুলতে চরম বে-কায়দায় পড়তে হচ্ছে ঐ এলাকার কৃষকদের।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ওই এলাকার কৃষকগণ রমেশ্বপুর মৌজার বড় রমেশ্বর, কালিগুয়াল, গুমরোল ও জওবাড়িসহ নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের আংশিক জমির ধান বিলকুজাইন ঘাট দিয়ে বহন করে নিয়ে আসে। বাঁশ ও কাঠের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো তৈরি করে ধান পরিবহন করতে হচ্ছে কৃষকদের। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুরগঞ্জ মৌজায় ২০২১ সালে ১৮১০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে। ইসলামপুরগঞ্জের কৃষক সোলাইমান বলেন, আমার রমেশ্বর মৌজায় ৩০ বিঘা জমি রয়েছে সেই জমির ধান আনতে আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়। এলাকার সাবেক ২জন সংসদ সদস্যও তাদের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করতে পারেনি। ২০১৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিলকুজাইন ঘাট পরিদর্শন করে এলাকার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে ছোট একটি সেতু করার জন্য আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তাই সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ঐ এলাকার শত শত ভূক্তভোগী কৃষকরা।

রোকনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুর হোসেন বলেন, এই মৌজার তার ৭ বিঘা জমি রয়েছে বছরে একবার মাত্র আবাদ হয়। কিন্তু এই ধান ঘরে তুলতে আমাদের চরম বেগ পোহাতে হয় শুধুমাত্র একটি সেতুর কারণে। এই ধান উঠার মৌসুমে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট কাদা হয়ে যায়। যার ফলে কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। তখন অনেক কষ্ট করে ধান মাড়াই করে কৃষকদের মাথায় নিয়ে ঘরে আনতে হয়। বৃষ্টিতে ওই কাঠের তৈরি সাঁকো ডুবে যায়। এতে দুর্দশা চরমে উঠে।

কৃষক সফর আলী বলেন, এই মৌজার কালিগুয়াল ও গুমরোল এলাকায় তার ২৫ বিঘা জমি চাষ করেন। তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেন কত সরকার এলো গেলো? কিন্তু এই এলাকার কৃষকদের দুঃখের কথা কেউ শুনল না? কতজন আশ্বাস দিল কিন্তু এখন পর্যন্ত সেতুতে একটি পোল পর্যন্ত স্থাপন করতে পারলো না। আমাদের জমির ধান আনতে এত কষ্ট হয় যে পারি না আমরা জমির ধান জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে আসি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম বলেন, ছোট সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর সাথে দেখা করে ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। তাদের একটি প্রতিনিধিদল আসার কথা ছিল কিন্তু করোনাকালীন সময় হওয়ায় তারা আসতে পারেনি। তবে দ্রুত তারা জায়গাটি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন। গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই এলাকাটি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলজিডির সাথে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে লিখব বলে জানান।

অপরদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ওই মৌজাটি যেহেতু ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত সেহেতু সীমান্তের ৪ কিলোমিটারের ভিতরে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। সেই কারণে সেতু নির্মাণ করা যায়নি। তাই অনুমতি পেলে আমরা সেতু নির্মাণ করব।

রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, সেতু নির্মাণ এর জন্য ইতিপূর্বে এলজিইডি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে মাপযোগ করে পাঠানো হয়েছে। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কখন যে হয় এটা দেখার বিষয়। খুব দ্রুত সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:২৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ মে ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
এনায়েত করিম সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com