রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ইউজিসির সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দুটোই জরুরি

সম্পাদকীয়   |   শনিবার, ২৯ মে ২০২১ | প্রিন্ট

অনলাইনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে-এ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ভার্চুয়াল বৈঠকে গৃহীত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতির পর তা বাতিল করা হয়েছিল এবং ৬ মে থেকে শুধু অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিভাইস ও ইন্টারনেটের প্রাপ্যতাসহ বেশকিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই উন্নতির দিকে। এ অবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে তবেই পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা উচিত।

এ ছাড়া অন্য একটি বৈঠকে উচ্চশিক্ষায় ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ বা মিশ্র শিখন পদ্ধতি (আংশিক অনলাইন ও আংশিক সরাসরি) বিষয়েও নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে দেশ যাতে পিছিয়ে না-পড়ে, সে লক্ষ্যেই ব্লেন্ডেড লার্নিং নীতিমালা প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে অনলাইন ও অনসাইট এডুকেশন পদ্ধতিকে একত্র করে উচ্চশিক্ষায় যুগোপযোগী শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

যুগের চাহিদা তো বটেই, সেইসঙ্গে করোনার কারণে অনলাইন শিক্ষা যে এখন সময়ের বাস্তবতা, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে দেশে অনলাইন শিক্ষা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন নেই। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এ সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁসজনিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মানসিক চাপসহ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভোগ পোহানোর নজির থাকলেও এবারের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব বর্তমানে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, যৌক্তিক কারণেই সরকারকে এসব পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। কারণ, করোনার ঝুঁকি থেকে তরুণ ও শিশুরা অনেকটাই নিরাপদ-প্রথমদিকে এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ ধারণা ভুল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি ইউনিসেফের প্রতিবেদনটিতে সেসময় বলা হয়েছিল, করোনায় সংক্রমিত প্রতি নয়জনের মধ্যে একজন অল্পবয়সি। কাজেই আমাদের পুরো একটি প্রজন্ম ঝুঁকির মধ্যে ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই অনেক দেশ জীবিকার তাগিদে দোকানপাট, কলকারখানা, অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ায় সেসব স্থানে ভাইরাসটির বিস্তার পুনরায় বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ছিল যথার্থ।

তবে শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা যাতে নষ্ট না-হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া অবশ্যকর্তব্য। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষায় যুগোপযোগী শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করি আমরা।

উত্তরা প্রতিদিন/একে

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৫৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ মে ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com