রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে জমে উঠেছে গোপালভোগ আমের বাজার

আমিনুল ইসলাম   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১ | প্রিন্ট

রাজশাহীতে জমে উঠেছে গোপালভোগ আমের বাজার

 রাজশাহীর বাজারে এখন বেচাকেনা হচ্ছে গোপালভোগ আম -উত্তরা প্রতিদিন

রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে গোপালভোগ আমের বাজার জমে উঠেছে। নিরাপদ ও পরিপক্ব আম বিক্রি করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বাজারে এসেছে নানা জাতের সুমিষ্ট গুটি ও গোপালভোগ আম। বর্তমানে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে গোপালভোগ আম পাইকারি বিক্রি ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকা। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত।

গত ৬ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসন, আম বিশেষজ্ঞ, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সাথে যৌথসভা করে ২০ মে থেকে গোপালভোগ আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া গুটি জাতের আম ১৫ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রানিপছন্দ ২৫ মে । সেই অনুযায়ী এখন বাজারে সুমিষ্ট বিভিন্নজাতের গুটি আম এবং গোপালভোগ আম পাওয়া যাচ্ছে। দেশজুড়ে রাজশাহী অঞ্চলের আমের সুখ্যাতি থাকায় রাজশাহী জেলার পাইকারি বাজারগুলোতে আনাগোনা বাড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের। ফলে প্রাণচঞ্চল ও চাঙ্গা হয়ে ওঠে আম নির্ভর এই জেলার অর্থনীতি।

রাজশাহীর বানেশ্বর, সাহেব বাজার, শালবাগান, বায়া, নওহাটায় জমে ওঠেছে আম বাজার। এসব বাজারে এখন আমচাষি ও ব্যাপারীদের আনাগোনা বেড়েছে।

এতদিন রোজা ও ঈদের ছুটির কারণে সেভাবে গাছ থেকে আম ভাঙেননি আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। তাই ২০ মের পর থেকে পুরোদমে আম ভাঙা শুরু হয়েছে রাজশাহীতে। বর্তমানে গোপালভোগ আমের বাজার ভরে উঠতে শুরু করেছে। বেচাকেনাও জমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নানান কারণে এই মৌসুমে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। তবে সরবরাহ কম থাকলেও এবার আমের বাজার ভালো। রাজশাহী জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাট। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক পাশেই থাকা পুরনো কাচারি মাঠকে ঘিরে ধুলোবালি ও প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে এখন সেখানে আমের হাট জমতে শুরু করেছে।

গতকাল বুধবার জমিনে বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আমবোঝাই ভ্যানগাড়ি ও নসিমনগুলোর জটলা বেড়েছ। সবাই গাদাগাদি করে আমের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। তবে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ভাল হওয়ায় বাইরের ব্যবসায়ীরা রাজশাহীতে আম কেনার জন্য রাজশাহী আসতে শুরু করেছে।

এরপরও প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে থরে থরে সাজানো হচ্ছে রাজশাহীর গোপালভোগ জাতের কাঁচা-পাকা আম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পরিবহনকে কেন্দ্র করে নতুন এই ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বছর দশেক আগেও বাঁশের ঝুড়িতে করে আম পরিবহন করা হতো। কিন্তু এখন সেই বাঁশের ঝুড়ির জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের ঝুড়ি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাঁশের ঝুড়িতে অনেক সময় আম নষ্ট হয়ে যেত। প্লাস্টিকের ঝুড়িতে সেই আশঙ্কা নেই। তাছাড়া বাঁশের ঝুড়ি শুধু একবারই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু প্লাস্টিকের ঝুড়িগুলো দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যায়। সব মিলিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় এই আমের হাট। ঈদের ছুটি শেষে বেড়াতে এসে অনেকেই প্রিয়জনদের জন্য ফেরার পথে প্রাইভেটকারে করে আমের ঝুঁড়ি নিয়ে ফিরছেন। খুচরা ও পাইকারদের মধ্যে চলছে আম নিয়ে দামাদামি।

বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী বুলবুল বলেন, বর্তমানে গোপালভোগ জাতের আম ১ হাজার ৭০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দুই হাজার ১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আমের বাজার এমন যে, প্রতিদিনই একটু একটু করে দর বাড়ছে বলে জানান তিনি।
অপর ব্যবসায়ী বেলাল বলেন, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা ময়মনসিংহ থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা রাজশাহীতে আম নিতে আসতে পারছিলনা তবে তারা এখন আসছে । কারণ গণপরিবহন চলার কারণ আমরা এখন আম সহজে বিক্রি করতে পারবো।

জানতে চাইলে পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, এবার শুরু থেকেই ঘন কুয়াশা, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি এবং তাপদাহের কবলে পড়ে রাজশাহীর আম। এ কারণে আমের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় ফলন কমেছে। যে কারণে সরবরাহ অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। আর তাই দামও একটু বেশি বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

বানেশ^র বাজারের বাণী ফলভান্ডার স্বতাধিকারী বলেন, আমরা বেশি অনলাইনে গোপালভোগ আমের অর্ডার পাচ্ছি। অনলাইনে সারা দেশে আমরা আম দিয়ে থাকি । তিনি বলেন, এবার আমের চাহিদা বেশি। ক্রেতা পাচ্ছি ভালই ।
বাঘার আম ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন এসেছেন রাজশাহীর কাটাখালি বাজারে আম বিক্রি করতে। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, আমি বাঘা থেকে গোপালভোগ এনেছি এই বাজারে বিক্রি করতে কারণ এখানে ক্রেতা থাকে অনেক বেশি। তার আমের বাগানে এবার গোপালভোগ কম এসেছে। তবে ক্রেতা বেড়েছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। রাজশাহীর শালবাগানে আম কিনতে এসেছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমি গোপালভোগ আম কিনতে এসেছি। কারণ আমি জানি রাজশাহীর গোপালভোগ আম সুস্বাদু । তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।

রাজশাহীর সাহেব বাজারে গিয়ে দেখা যায় ,ক্রেতা বিক্রেতা দরকষাতিতে বিক্রি হচ্ছে গোপালভোগ আম। তবে আমের বাজারে সব চেয়ে বেশি আম দেখা গেছে গোপালভোগ । পাশাপাশি গুটি আম আছে। বানেশ^র বাজারে ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, গোপালভোগ আমের দাম দিন দিন বাড়বে কমবে না ।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আমচাষি উজ্জ¦ল জানান, ‘এবার তিনি ৭ বিঘা জমিতে গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, আম রুপালি আম চাষ করেছেন। এর মধ্যে ১ বিঘা মাটিতে গোপালভোগ আম রয়েছে। তিনি বলেন ২০ মে পর গোপালভোগ আম বিক্রি করছি আশা করছি আরো এক সপ্তাহ গোপালভোগ বিক্রি কররো।

প্রসঙ্গ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমির আম বাগান থেকে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ টন। এতে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দুই লাখ ১৯ হাজার টন।

উত্তরা প্রতিদিন/আমি

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৩৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১

uttaraprotidin.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com