রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি ভালো উদ্যোগ

সম্পাদকীয়   |   শনিবার, ২২ মে ২০২১ | প্রিন্ট

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি ভালো উদ্যোগ

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে বর্তমানে যে অনাকাঙ্ক্ষিত কৌশল ও চাতুর্যের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, তা নিরসনে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন) প্রবিধানমালা, ২০২১’ নামে এক বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে এ কর্তৃপক্ষ।

খসড়া প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে- ‘শতভাগ হালাল’, ‘হালাল উপায়ে প্রস্তুত’ ইতাদি ধর্মীয় অনুভূতিযুক্ত শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে। এতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে পারে কিংবা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ক্ষতি করতে পারে অথবা রাজনৈতিক অনুভূতিকে পীড়া দেয়- এমন নির্দেশনা, ভাষা, দৃশ্য, চিত্র বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি ডাক্তার, পুষ্টিবিদ কিংবা খাদ্যসম্পর্কিত কোনো বিশেষজ্ঞ খাদ্যসংক্রান্ত বিজ্ঞাপনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। খসড়া প্রবিধানমালা অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনে প্রতিযোগী পণ্যের সঙ্গে তুলনা বা প্রতিযোগী পণ্যের নিন্দা করে কোনো পণ্যের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা যাবে না।

এমনকি আমদানিকৃত পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে উন্নতমানের- বিজ্ঞাপনে এমন প্রচারণাও চালানো যাবে না। শিশুর স্বাভাবিক বিশ্বাস ও সরলতাকে প্রতারণা ও চাতুর্যের সঙ্গে কাজে লাগিয়ে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। খসড়া প্রবিধানমালায় এমন আরও অনেক বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা যায়।

আমরা লক্ষ করছি, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের যেসব বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর অনেক কয়েকটিতে এমন সব ভাষা বা দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা কৌশলে পণ্যটির প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। এতে ভোক্তা শ্রেণির বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যেমন- পণ্যের মান যা-ই হোক না কেন, বিজ্ঞাপনে ‘প্রাকৃতিক’ ‘তাজা’, ‘খাঁটি’ ‘আসল’, ‘ঐতিহ্যবাহী’ ‘জেনুইন’, ‘ঘরের তৈরি’ ইত্যাদি শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এতে ভোক্তা শ্রেণি সহজেই পণ্যটির ব্যাপারে প্রলুব্ধ হতে পারে। বিজ্ঞাপনের চাতুর্যপূর্ণ ভাষা ও দৃশ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শিশুরা তাদের অভিভাবককে পণ্যটি কিনে দিতে বাধ্য করে- এমন ঘটনাও ঘটছে অহরহ। সবচেয়ে বড় অপকর্ম যেটি ঘটে তা হলো- বিজ্ঞাপনে ‘হালাল’ শব্দ ব্যবহার করে ভোক্তার ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানো। খসড়া প্রবিধানমালা আইনে পরিণত হলে এসব অপকর্ম থেকে মুক্তি মিলবে নিশ্চয়ই। আমরা চাই, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মানসম্মত পণ্যই ভোক্তারা পছন্দ করুক, চটুল ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিজ্ঞাপন যেন তাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে।

উত্তরা প্রতিদিন/একে

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:২৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২২ মে ২০২১

uttaraprotidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বাবলু সম্পাদক
এনায়েত করিম প্রধান বার্তা সম্পাদক
প্রধান কার্যালয়

৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২

ফোন: ০৭২১-৭৬০১৪৩, ০১৯৭৭১০০০২৭

E-mail: uttaraprotidin@gmail.com